কুড়িগ্রামে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত ৬ জনের গেজেট বাতিল করেছে সরকার। যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল তাঁদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি বাতিলের সুপারিশ করলে সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেয়।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে বিষয়টি জানা গেছে।
গেজেট বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার মো. শুকুর আলী ও আব্দুল মালেক, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার মো. আব্দুল হাই সরকার ও মো. নছর উদ্দিন, উলিপুর উপজেলার মো. হাবিবুর রহমান এবং নাগেশ্বরী উপজেলার মো. খবির আলী।
মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নির্ধারিত তদন্ত ও শুনানিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। ফলে তাঁদের নাম মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি গেজেট ও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড জানায়, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে আসছিলেন। হঠাৎ করে তাঁদের গেজেট বাতিল করার বিষয়টি কী কারণে হয়েছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না।
গেজেট বাতিল হওয়া মুক্তিযোদ্ধা কুড়িগ্রামের আব্দুল হাই বলেন, “আমি ৬ নম্বর সেক্টরে যুদ্ধ করেছি। আমার যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। আমি খুব দ্রুত ঢাকা গিয়ে সেগুলো জমা দেব। কেন আমার নাম গেজেট থেকে বাতিল করা হলো, বিষয়টি বুঝতে পারছি না।”
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল বাতেন বলেন, “যাঁদের গেজেট বাতিল করেছে সরকার, তাঁরা অনেক দিন ধরেই সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছিলেন। কেন তাঁদের গেজেট বাতিল করা হলো, তা আমাদের জানা নেই। তবে আমরা কেন্দ্রীয় কাউন্সিলকে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছি।”
গেজেট বাতিল হওয়া ব্যক্তিরা এত দিন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে এসব সুবিধা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।