কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে আবারও হাহাকার: গরুর ১০০-৬০০ টাকা, ছাগলেরটা কেউ নেয় না

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩২
বরাবরের মতো এবারও কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় বাজার বগুড়া, পূর্বাঞ্চলের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এবং পশ্চিমাঞ্চলের মেহেরপুরের গাংনীসহ বিভিন্ন এলাকায় চরম ক্রেতাসংকটে হাজার হাজার পশুর চামড়া অবিক্রীত পড়ে রয়েছে।

চামড়ার অস্বাভাবিক কম দামে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ কোরবানিদাতারা। একই সঙ্গে লাভের আশায় গ্রামগঞ্জ থেকে চামড়া সংগ্রহ করা মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বড় ধরনের লোকসান ও পুঁজি হারানোর ঝুঁকিতে। আড়তদারদের পুঁজিসংকট, ট্যানারিমালিকদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করা, লবণের দাম বৃদ্ধি এবং গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে চামড়া খাতে এবার বড় ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

একসময় কোরবানির মৌসুমে বগুড়ার চামড়ার বাজার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সরগরম থাকলেও এবার দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। বড় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি ও তৎপরতা ছিল খুবই কম।

স্থানীয় আড়তদার ও বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, কয়েকটি কারণে বাজারে এ সংকট তৈরি হয়েছে। ঢাকার ট্যানারিমালিকদের কাছে স্থানীয় আড়তদারদের আগের বিপুল পরিমাণ পাওনা আটকে রয়েছে। আড়তদার শামীম হোসেন বলেন, বকেয়া টাকা না পাওয়ায় নতুন করে বড় আকারে চামড়া কেনা বা বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে লবণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের খরচ বেড়েছে। ফলে বাড়তি ঝুঁকি নিতে চাইছেন না আড়তদারেরা। এছাড়া গবাদিপশুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজের কারণে অনেক চামড়ার মান নষ্ট হয়েছে। ফলে সরকার নির্ধারিত দাম শুধু ভালো মানের চামড়ার ক্ষেত্রেই মিলছে, অন্যগুলো বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র মূল্যে।

বগুড়ার মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরুর চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় সংগ্রহ করে শহরে এনে মাত্র ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শহরের ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মেটানোর পর হাতে কিছুই থাকছে না।

খাসির চামড়ার অবস্থা আরও খারাপ। ৩০ থেকে ৬০ টাকায় কেনা চামড়া আড়তে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকায়।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে কোনো পাইকারি ক্রেতা বা আড়তদারের দেখা মেলেনি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির চামড়া যত্রতত্র পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

সন্ধ্যার দিকে কিছু ক্রেতা এলেও তারা প্রতি গরুর চামড়ার দাম হাঁকছেন মাত্র ১০০ টাকা। অথচ দুপুরে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রামগঞ্জ থেকে প্রতিটি চামড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় কিনেছিলেন। পাইকার না থাকায় তারা এখন বড় লোকসানের মুখে পড়েছেন।

মৌসুমি ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন বলেন, সকালে বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় চামড়া কিনলেও বাজারে এনে কোনো আড়তদার পাননি। এখন এসব চামড়া নিয়ে কী করবেন, তা বুঝতে পারছেন না।

আরেক ব্যবসায়ী আহসান উল্লাহ জানান, কিছু লাভের আশায় ২৪ পিস চামড়া কিনেছিলেন। কিন্তু বাজারে ক্রেতা না থাকায় পুরো বিনিয়োগ হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামের চিওড়া এলাকা থেকে চামড়া বিক্রি করতে আসা জাফর আহমেদ জানান, ৬০ টাকা ভাড়া খরচ করে বাজারে এসেও তিনি মাত্র ১০০ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে কেনা ষাঁড়ের চামড়ার এমন মূল্য পাওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তার মতো অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাজার ও সড়কের পাশে ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন।

মেহেরপুরের গাংনীতেও চামড়ার বাজারে তীব্র মন্দাভাব দেখা গেছে। গত বছরের লোকসান এবং চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলার অভিজ্ঞতার প্রভাব এবারও স্পষ্ট।

সেখানে আকারভেদে গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়ার দাম নেমে এসেছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। বিক্রি করতে না পেরে অনেকে চামড়া এতিমখানা ও মাদ্রাসায় দান করে দিচ্ছেন।

স্থানীয় কোরবানিদাতা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গত বছর অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলেছিলেন। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাগলের চামড়া বিক্রি না হলে এবারও তা মাটিতে পুঁতে রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।

আরেক কোরবানিদাতা মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার বলেন, ছাগলের চামড়ার দাম মাত্র ২০ টাকা বলেই চলে গেছেন এক ব্যবসায়ী। তার মতে, সরকারের উচিত এই খাতের দাম বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

স্থানীয় চামড়া ব্যবসায়ী মোহা. ইয়াসিন আলী জানান, লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, বড় বাজারে ভালো দাম না পেলে ছোট ব্যবসায়ীদের পথে বসতে হবে।

তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন বিকেল পর্যন্ত অনেক এলাকায় কোনো চামড়া ব্যবসায়ীর দেখা মেলেনি। এতে সাধারণ মানুষ দীর্ঘ সময় চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করতে বাধ্য হয়েছেন। সূত্র: আজকের পত্রিকা

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, রোববার কুবিতে প্রথম জানাজা সদ্য. ঢাকার তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন সদ্য. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে আগামীকাল সাধারণ শোক, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট সদ্য. অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে পাঁচ বাহিনী সদ্য. লং মার্চ থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমিরকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগে বিএনপি সদ্য. শিক্ষিকার ছেলের হত্যাকাণ্ডে কুবি ছাত্রদলের শোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সদ্য. অবশেষে জারি হলো নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন সদ্য. আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সদ্য. আজই হতে পারে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন, নতুন কাঠামো নিয়ে যা জানা গেল সদ্য. অপ্রতিমের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, রোববার কুবিতে প্রথম জানাজা সদ্য. ঢাকার তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন সদ্য. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে কুবিতে আগামীকাল সাধারণ শোক, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছয় মাসের ‘সাফল্য’ তুলে ধরে হাসনাতের ফেসবুক পোস্ট সদ্য. অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনে মাঠে পাঁচ বাহিনী সদ্য. লং মার্চ থেকে ফেরার পথে সিরাজগঞ্জে জামায়াতের সাবেক ইউনিয়ন আমিরকে কুপিয়ে জখম, অভিযোগে বিএনপি সদ্য. শিক্ষিকার ছেলের হত্যাকাণ্ডে কুবি ছাত্রদলের শোক, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি