মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস শেখ বলেন, অতীতে ভারতের সঙ্গে যে ধরনের নির্ভরশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে তা পরিবর্তন করে ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকারও আহ্বান জানান তিনি।
সদস্য সচিব শাহিন মিয়া তার বক্তব্যে বলেন, 'বিএনপি তাদের আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। যাদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাদের অনেকেই এখন সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনের সময় তারা দেশের বাইরে ছিলেন এবং পরবর্তীতে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার চেষ্টা করেছেন। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি, কিন্তু বর্তমানে তা বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিসিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালীদের স্বজনদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও তিনি সমালোচনা করেন। জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, নিম্ন আদালতেও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, সেটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি পিএসসিতে দলীয়করণ এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিসিবিকে ব্যক্তিকেন্দ্রিকভাবে পরিচালনার অভিযোগও করেন তিনি।
সবশেষে তিনি বলেন, 'জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তায়। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানাই।'
এছাড়া, আওয়ামী লীগ আমলের রাষ্ট্রপতিকে বহাল রাখা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন এবং পৃথক বিচার বিভাগের অধ্যাদেশ বাতিলের প্রচেষ্টার সমালোচনা করেন।
তিনি আরও বলেন, 'অতীতের মতোই নিম্ন আদালতেও নানা ধরনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে যে জুলাই আন্দোলন হয়েছিল, তার মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বদলে ভিন্নমুখী কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।'
শেষে তিনি বলেন, 'জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্টদেরই নিতে হবে।'