আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা ইস্যুতে ঝুঁকিতে থাকা প্রার্থীদের জন্য সীমিত পরিসরে বৈধ অস্ত্র বহালের দাবি জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনের প্রার্থী নুরুল হক নুর।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতীক বরাদ্দ ও আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ দাবি জানান।
নুর বলেন, জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকা প্রার্থীরা বিশেষ ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। সে কারণে একেবারেই উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে বৈধ অস্ত্র রাখার সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তবে অন্য প্রার্থীদের অস্ত্র সাময়িকভাবে জমা নেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন জনগণের কাছে অত্যন্ত প্রত্যাশিত। অতীতের নির্বাচনগুলোতে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ সংকুচিত থাকায় দেশ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে পড়েছিল। পরিবর্তিত বাস্তবতায় অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
জাতীয় নির্বাচন ও আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে নুর বলেন, এই নির্বাচন শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ কারণেই তিনি এই নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখছেন।
নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে নুর জানান, পটুয়াখালী-৩ আসনে শিক্ষা, ক্রীড়া ও কৃষি খাতে ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, তরুণদের মেধা বিকাশ এবং কৃষকদের জন্য সার ও কীটনাশকের সহজ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাকে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে একটি রোল মডেল হিসেবে গড়ে তোলার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে নুর বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সংঘাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতি চলে আসছে। এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে গণ অধিকার পরিষদের দলীয় প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নুরুল হক নুর। একই দিন সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় তাকে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়।