বুধবার (২৯ জানুয়ারি) জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই অভিযোগ করেন। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বলতে শোনা যায়, ‘বাগেরহাটের জেলার আমার কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করেছে। বলেছে, বাগেরহাটে থাকতে হলে পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে।’
সাদ্দাম ও তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ৬ এপ্রিল আদালতের নির্দেশে তাকে বাগেরহাট জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২২ জুলাই ২০২৫ তাকে বাগেরহাট থেকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই তিনি বাগেরহাটের জেলারের বিরুদ্ধে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন।
তবে কারা কর্তৃপক্ষ সাদ্দামের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, কারাগারে থাকার সময় সাদ্দামের আচরণ ছিল আক্রমণাত্মক। তিনি বিভিন্ন বন্দী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের চেষ্টা করেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে সেলে রাখা হয়েছিল, যা কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়।
বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার খোন্দকার মো. আল-মামুন বলেন, ‘তার আচরণের কারণেই তাকে যশোরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে অন্য কোনো ঘটনা নেই। তাছাড়া একজন জেলার ইচ্ছামতো কাউকে অন্য জেলে পাঠাতে পারেন না। এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, এর আগে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামে ৯ মাসের শিশুসন্তানকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার পর কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালী (২২) নামে এক গৃহবধূ গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। গত শুক্রবার পুলিশ ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ এবং ঘরের মেঝে থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।
এই ঘটনায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি সাদ্দামের পরিবার তাকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করে। বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলেও তা যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে পৌঁছায়নি বলে দাবি স্বজনদের। পরে জানানো হয়, প্যারোলে মুক্তির আবেদন অনুমোদন হয়নি।
এরপর শনিবার সন্ধ্যায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলগেটে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহের সামনে শেষবিদায় জানান সাদ্দাম। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।