নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। প্রচলিত রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আগে অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভেতরে প্রবেশের সময় নির্বাচিত সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।
টানা তিনটি সংসদ, প্রায় ১৫ বছর পর বিএনপি নেতারা সংসদ ভবনে প্রবেশ করছেন। দলটি ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন করে। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে এবার সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে দলটি।
এবারের আয়োজনের বিশেষ দিক হলো—বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রী এবং পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। এ উপলক্ষে দেশ-বিদেশের হাজারও অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকছেন। এর মধ্যে রয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের প্রতিনিধি এবং সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং বিজিবি, র্যাব ও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহাপরিচালকদের অনুলিপি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সব মিলিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে দেশ। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের।