মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
এর আগে অভিযোগটি প্রকাশ্যে আসার পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রাম শহরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি। তাকে জামিনে মুক্তি পাইয়ে দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছে প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদার এক কোটি টাকা দাবি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের একাধিক অডিও রেকর্ডিংয়ে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। রেকর্ডিংগুলো সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো ও নেত্র নিউজ। দুটি গণমাধ্যমই রেকর্ডিংগুলো যাচাই করে দেখেছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি যৌথ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তারা।
অভিযোগ ওঠার পর ট্রাইব্যুনালের তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সাইমুমকে সংশ্লিষ্ট মামলার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। তবে তার বিরুদ্ধে আর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য দায়িত্ব থেকেও তাকে সরানো হয়নি।
সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ সাইমুম রেজা তালুকদারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তাকে প্রসিকিউটর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানায়। তিনি ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, 'সংবাদটি প্রথমে বাসায় বসেই দেখেছি। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে সব প্রসিকিউটরকে সকাল ৯টার মধ্যে কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলি এবং বিষয়টি বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।'
তিনি আরও বলেন, 'অভিযুক্ত প্রসিকিউটর দুই বা তিন দিন আগে আমার কাছে একটি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিল।'
সাইমুম রেজার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে তিনি ব্যথিত বলেও উল্লেখ করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।