শনিবার (২৭ জুন) সকালে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর কর্মকর্তা ডা. ঝন্টু সরকার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মৃত চার শিশুর মধ্যে চার মাস বয়সী এক কন্যাশিশুর বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার শাপলা বাজার এলাকায়। গত ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যু সনদে উল্লেখ করা হয়েছে, হামের লক্ষণের পাশাপাশি শিশুটি নিউমোনিয়া ও হৃদ্যন্ত্রের বিকলতায় আক্রান্ত ছিল।
অন্য তিন শিশুর মধ্যে চার মাস বয়সী এক ছেলেশিশুর বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার পলাশকান্দা এলাকায়। গত ২ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়। চার মাস বয়সী আরেক ছেলেশিশুর বাড়ি নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলার মাইশারচর এলাকায়। গত ১৬ জুন ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আট মাস বয়সী এক ছেলেশিশুর বাড়ি সুনামগঞ্জের মদনপুর এলাকায়। গত ৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন করে ১৬ শিশু বিচ্ছিন্নকরণ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে।
গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে দুই হাজার ৩৭৮ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই হাজার ২২৬ শিশু। এ পর্যন্ত ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় কোনো শিশুকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। একই সময়ে কাউকে ঢাকায়ও পাঠানো হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে শিশু বিভাগে রোগী ভর্তি শুরু হলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ৬৪ শয্যার একটি পৃথক বিচ্ছিন্নকরণ ওয়ার্ড চালু রয়েছে। সেখানে তিনটি চিকিৎসক দল দায়িত্ব পালন করছে।
বিচ্ছিন্নকরণ ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর স্বজন মনোয়ার খাতুন বলেন, গত সাত দিনে তার চোখের সামনে নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজন মা হিসেবে তিনি চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে রয়েছেন। তার ছেলে দিদারুল আলমের অবস্থাও ভালো নয়। প্রতিদিনই শিশুদের অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং প্রায় প্রতিদিনই একজন বা দুজনের মৃত্যু হচ্ছে। এভাবে মৃত্যু বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, এত বড় একটি হাসপাতালে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের সুবিধা নেই। প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা থাকলে হয়তো এত শিশুর মৃত্যু হতো না। দ্রুত এ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর কর্মকর্তা ডা. ঝন্টু সরকার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫৮ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে হামের লক্ষণ নিয়ে নতুন ১৯ শিশু ভর্তি হয়েছে।