রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, 'গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা কোনোভাবেই আইনের ফাঁক গলে বের হতে পারবে না। দেশে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন এবং তাদের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুমের শিকার ব্যক্তিরা শুধু কারও স্বজন নন, তারা পুরো জাতিরই অংশ।'
তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে গুম প্রতিরোধ আইন, মানবাধিকার কমিশন আইন এবং আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩-এর আওতায় ‘ক্রাইম এগেইনস্ট হিউম্যানিটি’—এই তিনটি আইনের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিশেষ করে শাস্তির মাত্রা ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। আইসিটি আইনে গুমের মতো অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও, প্রস্তাবিত গুম আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।'
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, 'এই ধরনের অসামঞ্জস্য থাকলে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং তদন্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আইনগুলো আরও যুগোপযোগী ও জনকল্যাণমুখী করতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সংশোধিত বিল আনা হবে।'
তিনি জানান, সংসদের চলতি অধিবেশনের মাঝামাঝি বা পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব আনা হতে পারে। লক্ষ্য একটাই—গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা এবং কোনো অপরাধী যেন শাস্তি এড়িয়ে যেতে না পারে।