শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রৌশন আহমেদের নেতৃত্বে রোববার রাত ১০টায় এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাত ১০টায় উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের পখমসার গ্রামে বাল্যবিবাহের আয়োজনের খবর পায় উপজেলা প্রশাসন। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রৌশন আহমেদ গোসাইরহাট থানার পুলিশের একটি দল নিয়ে কনের (১৫) বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে একই উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের বাসুদেবচাপ গ্রামের মো. শামীম হোসেন (৩২)-এর সঙ্গে ওই ছাত্রীর বিয়ের আয়োজন চলছিল। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের আগমনের খবর পেয়ে বর ও কাজী পালিয়ে যান।
কনে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর কনের মাকে বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে বোঝানো হলে তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। পরে নাবালিকা কন্যাকে বিয়ে দেওয়ার দায়ে কনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং অভিভাবকের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়—প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে।
পাশাপাশি ওই শিক্ষার্থী যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রৌশন আহমেদ বলেন, জনস্বার্থে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সময় মোবাইল কোর্টকে সহযোগিতা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহানা পারভীন ও জেন্ডার প্রমোটার তানজিলা আফরিন।