একুশে ফেব্রুয়ারি: শোকের মাঝেই গৌরব

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির শোক ও গৌরবের এক অবিনশ্বর ইতিহাস, যা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঢেলে দেওয়া এই প্রতিবাদ মানব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ভাষাবিদদের মতে, দেশপ্রেমের চেতনায় বাংলা ভাষা ও দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশত্যাগের প্রবণতা রোধ করাও সময়ের দাবি।

রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি শোক, আত্মত্যাগ ও গৌরবের এক অনুপম অধ্যায়। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সালাম, বরকত, রফিক ও জব্বারসহ অনেক তরুণ প্রাণ উৎসর্গ করেন।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৪৮ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার পর বাঙালির মনে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধে। সেই ক্ষোভ থেকেই গড়ে ওঠে দুর্বার ভাষা আন্দোলন, যার প্রাণকেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভেঙে রাজপথে নামেন। শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে শহীদ হন কয়েকজন তরুণ আন্দোলনকারী।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষক ও ভাষাবিদরা মনে করেন, একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু ভাষার দাবির দিন নয়; এটি ছিল আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক অধিকারের সংগ্রাম। তাই ভাষাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ। একই সঙ্গে দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রবণতাও উদ্বেগজনক বলে তারা উল্লেখ করেন।

বাংলা একাডেমির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, বাংলা ভাষার প্রতি অনেকের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। উচ্চশিক্ষিত ও বিত্তশালী অনেক বাঙালি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করছেন। তার মতে, এ ধরনের মানসিকতা ভাষার স্বাভাবিক বিকাশকেও বাধাগ্রস্ত করে। তিনি আরও বলেন, রাজনীতি, রাষ্ট্র পরিচালনা, উচ্চশিক্ষা এবং অফিস-আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাড়লে ভাষার উন্নতি নিশ্চিত হবে।

ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে, যখন ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি বিশ্বজুড়ে ভাষাগত বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার অধিকারের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

স্মৃতির মিনারে এক দিনের শ্রদ্ধা নয়, বরং বাঙালির গৌরব ও অহংকারের প্রতীক বাংলা ভাষাকে মনেপ্রাণে ধারণ করে এগিয়ে যাওয়াই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের প্রকৃত পথ।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২৮ সদ্য. তেজগাঁও কলেজ মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ সদ্য. রাজধানীর চার এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. কুড়িগ্রামের ফের সার নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা সদ্য. শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদশে, প্রতিক্রিয়ায় যা বলল ভারত সদ্য. ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু ৯৫০ ছুঁই ছুঁই সদ্য. অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না: কাজল সদ্য. তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ সদ্য. নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্য হিন্দু সদ্য. স্কুল কমিটি নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে যুবক নিহত, আহত ২৮ সদ্য. তেজগাঁও কলেজ মসজিদে ‘গোপন বৈঠক’, জঙ্গি সন্দেহে আটক ২৩ সদ্য. রাজধানীর চার এলাকায় ৮ ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. কুড়িগ্রামের ফের সার নিয়ে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তা সদ্য. শেখ হাসিনা আমলের ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করবে বাংলাদশে, প্রতিক্রিয়ায় যা বলল ভারত সদ্য. ক্ষমা না চাইলেও একাত্তরের অবস্থান মেনে নিয়েছে জামায়াত: আইনমন্ত্রী সদ্য. দেশে হাম উপসর্গে মৃত্যু ৯৫০ ছুঁই ছুঁই সদ্য. অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে দুর্নীতি ও নোট বাণিজ্য বরদাশত হবে না: কাজল সদ্য. তারেক রহমানের হাতে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষিত নয়: নাহিদ সদ্য. নভেম্বরে দিল্লি সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দ্য হিন্দু