পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশের সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর উত্তরা রাজউক মডেল কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের শরীরে এই ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের বাইরে মাইকে পরীক্ষাসংক্রান্ত নির্দেশনা প্রচার করা হয়।
যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকেই পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনেই পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় তদারকি ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পুলিশের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। সভায় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল। এতে অপরাধপ্রবণ ব্যক্তিদের মধ্যে সতর্কতা সৃষ্টি হয়। একই কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা উপদেষ্টা আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এর মাধ্যমে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে দায়িত্ব পালনকারীদের মধ্যে আরও বেশি সতর্কতা তৈরি হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত এসএসসি পরীক্ষায় কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে নকলের ঘটনা প্রায় ৭৮ শতাংশ কমে আসে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার সিসিটিভির পাশাপাশি পুলিশের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরাও যুক্ত করা হয়েছে।
এ বছর ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন।