সরকারি ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সফর ঘিরে ইতোমধ্যে সার্কিট হাউসসহ বিভিন্ন ভেন্যুতে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বুধবার বগুড়া সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বগুড়া জজ কোর্টে অনলাইন বেলবন্ড প্রদান কার্যক্রম ও বার সমিতির নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করবেন। পরে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
এরপর গাবতলীর বাগবাড়িতে ব্যক্তিগত ভিটা পরিদর্শন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতাল পরিদর্শন এবং খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দিনের শেষভাগে বিকেল সাড়ে ৩টায় শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে বগুড়া ত্যাগ করবেন তিনি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও তৎপরতা দেখা দিয়েছে। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে জনসভা কেন্দ্রিক প্রস্তুতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ কয়েকদিন আগে তারা জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সময়ই ২০ এপ্রিলের সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
তিনি আরও জানান, সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভিটা গাবতলীর নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকায় “জিয়াবাড়ি” পরিদর্শন করবেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া পৌরসভা ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বর্তমানে ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী এখানে প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে নাগরিক সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।