এবার কোথাও কেন্দ্র দখলের চেষ্টা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, কেন্দ্র দখল ঠেকাতে এবার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, পুলিশের জন্য ২৫ হাজার ৭০০টি বডিওর্ন ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসবের পরও কেউ যদি কোনো ধরনের অনিয়মের চেষ্টা করে, তাহলে সে ভাই হোক বা বোন হোক—কেউ ছাড় পাবে না। তার ছবি রেকর্ডে থাকবে এবং তিন-চার দিন পর হোক বা ছয় মাস জামিনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সাহাব উদ্দিন মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভাগীয় প্রশাসনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতি সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। সভায় সম্ভাব্য সমস্যাগুলো ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি বেশ ভালো এবং প্রশংসনীয়। তারা জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ঝিনাইগাতির ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঘটনার পর জড়িতরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়, ফলে ধরতে কিছুটা সময় লাগে। তবুও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচনে সাংবাদিকদের পোলিং সেন্টারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার আশঙ্কা নেই। এখন পর্যন্ত ময়মনসিংহ বিভাগসহ দেশের কোথাও সাংবাদিকদের ওপর বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেনি। ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে, তবে গুরুতর কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় বিলম্বের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফলাফল প্রস্তুত হলেই তা ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে ফলাফল জানা সহজ, কারণ প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের এজেন্ট থাকবেন। তারা সঙ্গে সঙ্গেই মোবাইল ফোনে ভোটের হিসাব জানিয়ে দেন। সরকারি ঘোষণার আগেই অনেক সময় মানুষ মোবাইলের মাধ্যমে ফলাফল জেনে যায়।
এ সময় ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মিজ ফারাহ শাম্মী (এনডিসি), ময়মনসিংহ পুলিশ রেঞ্জের ডিআইজি মো. আতাউল কিবরিয়া, র্যাব-১৪-এর অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হক, ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানসহ সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার ও বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।