গত, ১৭ নভেম্বর ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নির্দেশনা দিয়ে প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠানোর আহ্বান করে। বাংলাদেশ জানায়, প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী ভারত তাদের ফেরত দিতে বাধ্য, আর দায়ীদের ফেরত না দেওয়া ভারতের থেকে অমিত্রসুলভ আচরণ।
কিন্তু দিল্লির অবস্থান ভিন্ন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রায়টি লক্ষ্য করেছে এবং বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সমর্থন করবে। তবে প্রত্যর্পণ প্রশ্নটি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছে। আগের দুই নোট ভারবালেরও জবাব দেয়নি ভারত।
দ্য ডিপ্লোম্যাট জানিয়েছে, ভারতে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিরোধিতা রাজনৈতিকভাবে প্রবল। মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে তার দীর্ঘ শাসনামলে দিল্লির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কারণে তাকে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি পাঠানো ভারতের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত।
আইনগত দিক থেকেও পথটি জটিল। ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও ভারত 'রাজনৈতিক চরিত্রের অপরাধ' ধারাটি প্রয়োগ করে ফেরত পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। তাছাড়া বিচার প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে দিল্লি। এমনকি, ভারত সম্মত হলেও সম্পূর্ণ বিষয়টি আদালতে দীর্ঘ শুনানিতে গিয়েও গড়াতে পারে।
নিবন্ধে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ সীমিত হওয়ায় বড় সিদ্ধান্ত এমুহূর্তে নিতে চাইছে না ভারত। দিল্লি যেকোন বড় সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর। কারণ, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী অবস্থান সহজেই ইস্যু হয়ে উঠতে পারে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও চাপে ফেলতে পারে।