পুরোনো ঘুনে ধরা রাজনীতি নয়, তরুণ ও জনআকাঙ্ক্ষাভিত্তিক রাজনীতির বাংলাদেশ দেখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অতীতের মতো কোনো নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং এবার আর বরদাস্ত করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৯টায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে সমঝোতার ভিত্তিতে ২৫৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণার আগে নিজের বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরের রাজনীতির যে ঘুণেধরা অবস্থা থেকে জাতি মুক্তি চায়, সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যেই এই ঐক্য। ফ্যাসিবাদী চরিত্রের রাজনীতি, নিরীহ মানুষ হত্যার রাজনীতি কিংবা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি তারা আর দেখতে চান না। তিনি বলেন, প্রকৃত অর্থে জনগণের, বিশেষ করে তরুণদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তেই এই অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ।
তিনি জানান, জুলাই বিপ্লবের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেন—এমন শক্তিগুলোই এখানে একত্রিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন চায়, আর সেই পরিবর্তনের দায়িত্ব নিয়েই তারা মাঠে নেমেছেন। জনগণের সমর্থন ও ভালোবাসায় বিজয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, যে কোনো ধরনের কারচুপি, ভোট ডাকাতি ও ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান থাকবে কঠোর। তিনটি নির্বাচনে ভোট দেওয়ার বয়স হওয়া সত্ত্বেও যারা ভোট দিতে পারেনি, তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেন তিনি। যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজেদের ভোট দিতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং ভোটের হিসাব নিয়েই ঘরে ফিরতে হবে।
বক্তব্যে তিনি ৪৭, ৭১ ও ২৪—জাতির গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্টে জীবন উৎসর্গকারী ও আন্দোলনে আহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে বিপ্লবী সহযোদ্ধা শহীদ শরীফ উসমান বিন হাদির হত্যার বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, এই বিচার হলে জাতির জন্য জীবন উৎসর্গে আরও মানুষ এগিয়ে আসবে, আর বিচার চাপা পড়লে ভবিষ্যতে বিপ্লবীর জন্ম হবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে জনগণের আকাঙ্ক্ষার সুষ্ঠু নির্বাচনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর মধ্য দিয়েই একটি সোনালি সমাজ বিনির্মাণের নতুন অধ্যায় সূচিত হোক।
এর আগে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। প্রাথমিক বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক গত ১৫ বছরের গুম-খুন ও নির্যাতনের কথা স্মরণ করে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি জানান, জুলাই সনদের দাবি পূরণে ৫ দফা কর্মসূচির মাধ্যমে ১১টি রাজনৈতিক দল ‘ওয়ান বক্স’ নীতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে একত্রিত হয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, স্বাধীনতা ও মানবিক সুবিচারের পক্ষে থাকা দলগুলোর এই ঐক্য একটি ঐতিহাসিক যাত্রা। তিনি জানান, ঘোষণার পর সবাই ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং একসঙ্গে কাজ করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।