শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘কল্যাণমুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৯টি অগ্রাধিকার খাতে সাজানো ৫১ দফার ইশতেহার জাতির সামনে তুলে ধরেন।
ইশতেহারে বিএনপি দাবি করে, ২০০১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশকে কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে সে অপবাদ থেকে মুক্ত করা হয়েছিল। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ার আগেই বাংলাদেশ দুর্নীতির তালিকা থেকে বেরিয়ে এসে আন্তর্জাতিকভাবে ‘ইমার্জিং টাইগার’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত সূচকে ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কোর ধারাবাহিকভাবে উন্নত হয় বলেও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।
দুর্নীতি দমনে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপি জানায়, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দুর্নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট আইন সংস্কারের পাশাপাশি পদ্ধতিগত সংস্কারের মাধ্যমে সংস্থাটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
ইশতেহারে আরও বলা হয়, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে সর্বক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র, সম্পদ বিবরণী দাখিল, রিয়েল-টাইম অডিট এবং শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করা হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে হয়রানি কমাতে ‘সিঙ্গেল-উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’ ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর পাশাপাশি প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি ডিজিটাল করা হবে, যাতে ঘুষ ও অবৈধ লেনদেনের সুযোগ কমে।
দুর্নীতি দমনের অংশ হিসেবে সংবিধানের অধীনে আইন প্রণয়ন করে একজন ‘ন্যায়পাল’ নিয়োগের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। একই সঙ্গে বিএনপি আমলে কার্যকর হিসেবে বিবেচিত ‘কর ন্যায়পাল’ পদ পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথাও বলা হয়েছে।
সরকারি ব্যয় ও উন্নয়ন প্রকল্পে কেবল আর্থিক অডিট নয়, ‘পারফরম্যান্স অডিট’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়, এতে সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহিতা বাড়বে এবং প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন নিশ্চিত হবে।
এছাড়া বিগত সরকারের আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির তদন্ত করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার জন্য রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
ইশতেহারের শেষাংশে বলা হয়, 'অন্যায় যে করে, সে কোনো দলের নয়—সে শুধু অন্যায়কারী। দেশের ও জনগণের স্বার্থে অন্যায়কারীদের আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।'