স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (৩ মে) সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি, মালঞ্চ নদীর আগা, চালতেবেড়ে, মাইটভাঙা ও পশুরতলা খাল এলাকা থেকে জেলেদের তুলে নিয়ে যায় দস্যুরা। অপহৃতরা শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ, রমজাননগর ও ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ফিরে আসা কয়েকজন জেলে জানান, কদমতলা ও কৈখালী স্টেশন থেকে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে তারা কয়েকদিন আগে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান। এ সময় বিভিন্ন খালে অভিযান চালিয়ে ২৮ থেকে ৩০ জন জেলেকে অপহরণ করা হয়। এর মধ্যে ২২ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপহৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে মারধরের পর মুক্তিপণ আনার শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকিদের এখনও জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, লোকালয়ের খুব কাছাকাছি এলাকা থেকেও জেলেদের তুলে নেওয়া হচ্ছে। হরিনগর বাজার থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিটের নৌপথ দূরত্বেও অপহরণের ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতার অভাবকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন তারা।
জিম্মিদের স্বজনরা জানান, এখনো পর্যন্ত মুক্তিপণের নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক জানানো হয়নি। তবে নেটওয়ার্কের আওতায় এলে দস্যুরা যোগাযোগ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হরিনগর, কদমতলা, মরাগাং, চুনকুড়ি ও মথুরাপুর এলাকার জেলেদের মধ্যে চরম ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।
সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, জেলেদের অপহরণের বিষয়টি কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
বারবার অপহরণের ঘটনায় সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত যৌথ অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার এবং জলদস্যুদের দমন করা হোক।