ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর ভাষ্য, আগে অনেক ভুক্তভোগী নানা কারণে থানায় মামলা করতে পারতেন না, কিন্তু বর্তমানে অভিযোগ নিয়ে গেলে তা নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি মঞ্জুরি ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি সেই দক্ষতার প্রতিফলন মন্ত্রণালয়ের কাজেও আরও স্পষ্টভাবে দেখা উচিত।
এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিভিন্ন সূচকে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। খুন, ডাকাতি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ বিভিন্ন অপরাধের তথ্য সংসদে আগেও উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ধর্ষণ মামলার সংখ্যা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের কারণে অনেক ভুক্তভোগী মামলা করতে সাহস পেতেন না। বর্তমানে থানায় সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি অনলাইনে জিডি ও এফআইআর দাখিলের সুযোগ থাকায় মামলার সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ষণ বা নারী-শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আসামি গ্রেপ্তার, চার্জশিট দাখিল এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, পুলিশ কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে নয়, অপরাধের ভিত্তিতেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়। পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোরও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থায়ী উন্নয়নে জনসচেতনতা ও জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় নয়, সমাজের সব স্তরের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব।
মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আরও আধুনিক ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হচ্ছে। ডগ স্কোয়াড, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তিনি জানান, ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে সময়োপযোগী আইন কার্যকর করে অনলাইন বেটিং ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।