ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নিজের শিক্ষাজীবন ও ইন্টার্নশিপের নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি ঢাকা মেডিকেলে পড়াশোনা ও হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের সময়ের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
ডা. জুবাইদা বলেন, চিকিৎসক জীবনে অনেক অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এক রোগীর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলেও সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি—সেই ঘটনার স্মৃতি এখনো তাকে নাড়া দেয়।
তিনি আরও বলেন, পেডিয়াট্রিক, মেডিসিন ও গাইনি বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময় এমন অনেক ঘটনা দেখেছেন, যেখানে চিকিৎসার পাশাপাশি মানবিকতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও এই পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা। প্রযুক্তির উন্নতি হলেও চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ভবিষ্যতে বাংলাদেশে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা চিকিৎসাশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চান বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা মেডিকেলের সাবেক শিক্ষার্থীদের ঐতিহ্য ও দায়িত্বের বন্ধনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় শক্তি তার ভবন নয়, বরং তার মানুষ, মেধা ও মূল্যবোধ।