জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেছেন, “আলেম-উলামাদের পেছনে রেখে বাংলাদেশ কখনোই সামনের দিকে এগোতে পারে না।” অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এনসিপি এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে বলে তিনি জানান।
বৃহস্পতিবার (বিকাল ৫টা) ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান ফটক পৌর মুক্তমঞ্চ মাঠে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী পদযাত্রায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সুশাসন, সংস্কার ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে’ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এই নির্বাচনী পথযাত্রার আয়োজন করে।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, “হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনে শাপলা চত্বরে যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল, সেই শহীদদের এবং আধিপত্যবাদী মোদি-বিরোধী আন্দোলনের শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। আমরা দেখেছি, দেশের জন্য জীবন দেওয়া আলেম-উলামাদের ফ্যাসিবাদী সরকার নানা ধরনের ট্যাগ লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনার মতো স্বৈরাচার আর দেখতে না চাইলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ভোটাধিকার রক্ষার জন্য সবাইকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
বক্তব্যে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত করার সংগ্রামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। শুধুমাত্র গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কারণে ফ্যাসিবাদী সরকার এই জেলাকে দীর্ঘদিন বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার করেছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী মো. আতাউল্লাহ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসেন আশরাফী।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরা শারমিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহাসিন হাসান, জেলা এনসিপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মাওলানা মোহাম্মদ আলী, জেলা সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল হক চৌধুরী, জাতীয় যুব শক্তির সভাপতি ফরহাদ সোহেলসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ।