দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকুন: তারেক রহমান

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৬
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকলের প্রতি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, সামনে কঠিন সময়। এই  নির্বাচনও খুব সহজ নয়। তাই সকলে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।
 
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডন বিএনপি আয়োজিত লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমি এক বছর আগে আপনাদেরকে বলেছিলাম,  সামনে কিন্তুকঠিন সময়। ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই নির্বাচনও কিন্তু খুব সহজ নয়। আপনারা অনেকেই কিন্তু ব্যাপারটা এখন বুঝতে পারছেন। এক বছর আগে যা বলেছি সেটা কিন্তু হচ্ছে।’

প্রবাসীদের সাথে এই অনুষ্ঠানটি একদিকে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান হলেও অন্যদিকে ছিল বিদায় অনুষ্ঠানও।

তিনি বলেন, ‘আমি এক বছর আগে আপনাদেরকে বলেছিলাম সামনে আমাদের কঠিন সময়।  ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই নির্বাচনও কিন্তু খুব সহজ নয়। এখন আমি আবারও বলছি, সামনের সময় কিন্তু খুব সুবিধার না। কাজেই সকলকে সজাগ থাকতে হবে, সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

প্যাভিলিয়নে হল ভর্তি প্রবাসীদের উদ্দেশে তারেক প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কী ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন?’

প্রবাসীরা উচ্চ কন্ঠে ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দিলে তিনি বলেন, ‘ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলেই আমরা আমাদের এই যে পরিকল্পনার (দেশ গড়ার পরিকল্পনা) কথা  বললাম তা সফল করতে পারবো,  ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে পারবো, ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা বাংলাদেশের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবো।'

যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই ব্রিটেনে যে আপনারা আছেন এই দেশে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা আছে বলেই এই দেশের মানুষ তার ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হয় না। বাংলাদেশের মানুষ বহু বহু যুগ ধরে তাদের ন্যায্যতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। কাজেই আসুন বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য অধিকার যদি ফিরিয়ে দিতে হয় যে কোন মূল্যে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ না থাকার কোনই বিকল্প নেই।’

তিনি আরো বলেন, ইউনাইটেড বি স্ট্যান্ড, ডিভাইডেড উই ফল’।  কাজেই এই কথাটি আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে।'

উল্লেখ্য, ১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময়ে ২০০৭ সালে তারেক রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। কারা হেফাজতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের জামিনে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০০৮ সালে স্ত্রী জুবাইদা রহমান  ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে লন্ডনে যান তিনি। তারেক রহমান দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন।

তারেক রহমানের বক্তব্যের শুরুতে বিদায়ের কথা উচ্চারিত হয়। এ সময়ে তিনি প্রবাসীদের প্রতি তার কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। প্যাভিলিয়ন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তিল পরিমাণ ঠাঁই ছিলো না। বক্তব্যের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

সকলের কাছে দোয়া চেয়ে তারেক রহমান ২৫ তারিখে দেশে ফিরে আসার কথা জানান।

তিনি বলেন, 'সকলের কাছে দোয়া চেয়ে নিচ্ছি। আপনারা দয়া করে দোয়া করবেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করবেন। আপনাদের সামনে যে পরিকল্পনা তুলে ধরেছি দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য সেই কাজগুলো আমি যেন সম্পূর্ণ করতে পারি।'

উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমি একটি বিনীত অনুরোধ করতে চাই। আপনাদের সাথে আমি ১৮  বছর ছিলাম। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অনেক মানুষের সাথে দেখা হয়েছে। আপনাদের সাথে বহু স্মৃতি আমার রয়ে গিয়েছে, আপনাদের সাথে বহু দুঃখ কষ্ট আমি শেয়ার করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা বিভিন্ন সময় যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী বিশেষ করে যারা জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশী রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন আপনারা বিভিন্ন সময়ে আমার, আমার পরিবারের, দলের বিপদের সময় আমাকে মানসিকভাবে সাহস দিয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, সমর্থন যুগিয়েছেন। কিন্তু এখানে এই ঘরে উপস্থিত প্রত্যেকটি মানুষের কাছে আমার অনুরোধ দয়া করে ২৫ ডিসেম্বর আমার দেশে ফেরার দিন কেউ আপনারা এয়ারপোর্টে যাবেন না।’

তিনি বলেন, ‘কারণ এয়ারপোর্টে গেলে একটি হট্টগোল তৈরি হবে এবং মানুষ জানবে যে এরা সব বাংলাদেশী। এতে দেশের সুনাম নষ্ট হবে, দলের সুনাম নষ্ট হবে।'

তারেক রহমান বলেন, ‘যারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, আমার আজকের এই অনুরোধ যারা রাখবেন আমি ধরে নেবো তারা দল এবং সর্বোপরি দেশের সম্মানের প্রতি মর্যাদা রাখবেন। আর আমার মানা করা সত্ত্বেও আমার অনুরোধ করার পরেও যারা যাবেন আমি ধরে নিতে পারি তারা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য সেখানে গিয়েছেন।’

বক্তব্যে শেষে দেড় মিনিটের একটি ভিডিও দেখানো হয় যেখানে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ থেকে ২৪ এর ফ্যাসিস্টদের পতন এবং গণ-অভুত্থানের পরে নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলা হয়েছে।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশকে একটি সুখী, কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে তার প্রণীত দেশ গড়ার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। এতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মাস কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধান প্রভতি বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন তিনি।

এ নির্বাচন শুধু এক্সপেরিমেন্ট নয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী নির্বাচন কিন্তু কোন এক্সপেরিয়েন্সের বিষয় না, এক্সপেরিমেন্টের বিষয় না। এই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এইটিকে সৎ ভাবে ব্যবহার করতে হবে।'

তিনি বলেন, ‘সবার মনে রাখতে হবে, আগামী যে সময়টা আসছে এটা একটা পরিবর্তনের সুযোগ।  আমরা যদি এইবার দেশটাকে পরিবর্তন করতে পারি তাহলে এগিয়ে যাবো।'

তিনি বলেন, ‘আপনারা সকল প্রবাসী বিভিন্ন ভাবে যে রকম আন্দোলন গড়ে তুলেছেন একইভাবে এখন বিশাল দায়িত্ব হচ্ছে সঠিক দলকে নির্বাচিত করতে সহযোগিতা করা। যেই দল সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে আগামী দিনে দেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে, যেই দল আগামী দিনে সঠিকভাবে বাংলাদেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারবে সেই দলকে নির্বাচিত হতে সহায়তা দেয়া।'

প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা যে প্রবাসে আছেন আপনাদের কাছে প্রথমেই আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। আমাদের যে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন এই আন্দোলনে প্রবাস থেকে বহু জন বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। এই আন্দোলন সফল হওয়ার পেছনে প্রবাসীদের একটি বিশাল ভূমিকা রয়েছে।কাজেই প্রবাসীদের অবদানকে কোনভাবেই আমরা খাট করে দেখতে পারি না।’

তারেক রহমান আরো বলেন, ‘আপনাদের সামনে আমি যেই পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেছি, আমাদেরকে আগে কাজ শুরু করতে হবে। আমরা যদি কাজ শুরু করতে না পারি এবং আমরা যদি সকলের দাবি উপস্থাপন করতে থাকি তাহলে কিন্তু একটা ইনডিসিপ্লিন তৈরি হবে। ফলে আমরা কিন্তু আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো না।'

তারেক রহমান এ সময়ে জনগণের সমর্থন নিয়ে তার দল আগামীতে সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতায় দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সদ্য. তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি সদ্য. সৌদি আরবে হুথি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ সদ্য. ইশরাকের অভিযানের সেই জায়গায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮ সদ্য. দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১২০০ সদ্য. এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা সদ্য. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করল মাউশি সদ্য. জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৭ সদ্য. দেশে পৌঁছেছে সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশির মরদেহ সদ্য. এনসিপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা সদ্য. সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতায় দ্বিতীয় দিনও বন্ধ বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট সদ্য. তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি সদ্য. সৌদি আরবে হুথি হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানাল বাংলাদেশ সদ্য. ইশরাকের অভিযানের সেই জায়গায় পুলিশের অভিযান, গ্রেপ্তার ২৮ সদ্য. দেশে হামের উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১২০০ সদ্য. এনসিপির গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা সদ্য. সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করল মাউশি সদ্য. জর্ডানে গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলায় নিহত ৭ সদ্য. দেশে পৌঁছেছে সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণ হারানো বাংলাদেশির মরদেহ সদ্য. এনসিপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা