বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়। পরদিন তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চপদ।
বিমানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিস্ময় প্রকাশ করা হচ্ছে যে, দুর্নীতির অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে এত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের একটি শক্তিশালী পক্ষের তদবিরের ফলে মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন। একটি সূত্রে অবসরপ্রাপ্ত এক পরিচালককেও নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যিনি নিজেকে একজন মন্ত্রীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন।
মিজানুর রশীদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে বিমানের সঙ্গে যুক্ত। তার বাবা ও এক ভাইও বিমানে চাকরি করেছেন। তার বড় ভাই মো. হারুন অর রশীদ ভ্রমণ ভাতা ও দৈনিক ভাতার (টিএ/ডিএ) ভুয়া ভাউচার তৈরি করে ছয় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। ২০১৮ সালে ঢাকার মহানগর বিশেষ জজ আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও জরিমানা দেন। বর্তমানে তিনি পলাতক।
মো. মিজানুর রশীদ নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “বিভাগীয় মামলা থেকে আমাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং দুদকও আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে।”
তবে দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, “মিজানুর রশীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান এখনও চলমান। বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
দুদক সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি কমিশন থেকে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়, যেখানে সফটওয়্যার কেনা, অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন এবং বিভাগীয় মামলার তথ্য চাওয়া হয়। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে।