কারা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পলাতক হাজতির নাম হৃদয় (২৮), কসবা থানার নিমবাড়ি এলাকার মুজিবুর মিয়ার ছেলে। তার হাজতি নং-১২০০৪। হৃদয় আখাউড়া থানার জি আর-৪২০/২০১৮ নম্বর হত্যা মামলার আসামি। গত বছরের ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটে হৃদয় অন্য বন্দিদের সঙ্গে যোগসাজশে বরাতোক্ত স্বারকে এসএল নং ০১/২৬, নবীনগর থানার জিডি নং ৭৪২/১৫১ ধারার অব্যহতিপ্রাপ্ত আসামি দিদার হোসেনের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে জামিনপ্রাপ্ত বন্দিদের মুক্তি প্রক্রিয়ার সময় পালিয়ে যান। ঘটনার সময় গেট, মুক্তি শাখা, ভর্তি শাখা, আইসিটি ও পিসিআইডিএস শাখার একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর গুরুতর অবহেলার অভিযোগ উঠেছে।
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, আদালতের জামিন ও খালাস সংক্রান্ত নথি যাচাইয়ে চরম গাফিলতি এবং গেট পর্যায়ে তদারকির অভাবই এ পলায়নের মূল কারণ। এতে কারা ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
দায়িত্বে অবহেলার কারণে বরখাস্তকৃতদের মধ্যে রয়েছেন ডেপুটি জেলা মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, সর্বপ্রধান কারারক্ষী শাহাদাত হোসেনসহ ছয়জন কারারক্ষী: গেট দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী মোরশেদ আলম নং-২২২২৩, মুক্তি শাখার মো. হানিফ মিয়া নং-২২২৫১, ভর্তি শাখার ইনচার্জ শাহাব উদ্দিন নং-২২১৫৩, কারাভ্যন্তর গোয়েন্দা রবিউল আলম নং-২৩৪০৫, আইসিটি শাখার মো. জাহিদ হাসান নং-২৩৪২৩, পিসিআইডিএস শাখার মোহাম্মদ আবু খায়ের নং-২৩২০০২। ঘটনার পরপরই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বরখাস্তের স্থায়ী অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘পলাতক হাজতিকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
একটি জেলা কারাগার থেকে এভাবে হাজতির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারা নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সদ্য সংবাদ/মমিনুল হক রুবেল