বিদ্রোহীদের নিয়ে শেষ মুহূর্তে কী ভাবছে বিএনপি

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৮

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া বিএনপি নেতাদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি করাতে পারেনি দলটি। বহিষ্কারসহ নানা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের নির্বাচনি লড়াই থেকে বিরত রাখা যায়নি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় অন্তত ৭২ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবু তারা অধিকাংশই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সক্রিয়ভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে অনেক আসনেই বিএনপির মনোনীত কিংবা সমর্থিত প্রার্থীরা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন বলে দলের ভেতরেই আলোচনা রয়েছে।

কিছু এলাকায় একাধিক বিএনপি নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দলীয় ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবার যেসব আসনে বিএনপি অন্য দলকে সমর্থন দিয়েছে, সেখানেও বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে সমর্থিত প্রার্থীরা চাপের মুখে পড়ছেন। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

মনোনয়ন না পেয়ে যারা নির্বাচনে দাঁড়াননি, কিন্তু দলীয় প্রার্থীর পক্ষেও সক্রিয় হননি—এমন নেতাদের নিয়েও দুশ্চিন্তা ছিল। যদিও শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে শেষ মুহূর্তে তাদের কেউ কেউ দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেছেন।

বিএনপির নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তবে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা নির্বাচন করছেন, তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে বিএনপির কোনো ক্ষতি হবে না বলে আমরা মনে করি।”

কতজন বিদ্রোহী এখনো মাঠে

বিএনপির দপ্তর বিভাগ সূত্র জানায়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ৭২ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে অন্তত ৭৫টি আসনে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে রয়েছেন।

তাদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া প্রায় সবাই ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে দলীয় প্রার্থীদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ নেতাকর্মীকেও বহিষ্কার করেছে দলটি।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতারাও রয়েছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক নেতাকর্মী দলীয় প্রার্থীর বদলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।

বিশেষ করে বিএনপি সমর্থিত শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বড় চ্যালেঞ্জে পড়ছেন বলে আভাস মিলছে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, শীর্ষ নেতৃত্ব বিদ্রোহী কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলোচনা করলেও তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হননি। বরং কেউ কেউ জানিয়েছেন, জয়ী হলেও তারা বিএনপিতেই ফিরে আসবেন।

বিএনপির অবস্থান কী

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করছেন, তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দলীয় প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।”

তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মীরা এখন দলীয় মনোনীত বা সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করছেন। নির্বাচনে তারই প্রতিফলন দেখা যাবে।”

তবে দলের ভেতরেই আলোচনা আছে—বাস্তবতা অনেক ক্ষেত্রে ভিন্ন। কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইতোমধ্যে বড় সমাবেশ করে আলোচনায় এসেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছেন, কেন্দ্র থেকে তাকে নির্বাচন না করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। ওই আসনে বিএনপি সমর্থন দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরকে বিএনপি সমর্থন দিলেও সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির হাসান মামুন। নুর প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব দুবার আলোচনা করলেও হাসান মামুন সিদ্ধান্ত বদলাননি।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের বিপরীতে বহিষ্কৃত নেতা সাইফুল ইসলাম ফিরোজ নির্বাচন করছেন। তিনি বলেছেন, জয়ী হলে আসনটি “তারেক রহমানকে উপহার দেবেন”।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, শেরপুর, হবিগঞ্জসহ একাধিক আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, “বিএনপি শক্ত বার্তা দিতে পারেনি বলেই এতগুলো আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা যাচ্ছে। কোথাও যোগ্য প্রার্থী দেওয়া হয়নি, কোথাও শরিক দলকে সমর্থন দিয়ে নিজ দলের নেতাদের সন্তুষ্ট করা যায়নি।”

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে বিদায়ী চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ