প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের আদালতগুলোতে বিপুলসংখ্যক মামলা বিচারাধীন থাকায় দ্রুততম সময়ে এসব মামলার নিষ্পত্তি করাই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মিলিয়ে ৪৭ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি-সংক্রান্ত মামলা। এ পরিস্থিতিতে প্রচলিত আদালতের পাশাপাশি গ্রাম আদালত ও এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হলে সময় যেমন কম লাগবে, তেমনি সামাজিক সম্পর্কের অবনতিও অনেক ক্ষেত্রে এড়ানো সম্ভব হবে।'
তিনি বলেন, 'সময়ের সঙ্গে জমির মালিকানা ও অংশীদারিত্ব বেড়েছে, ফলে ভূমি ব্যবস্থাপনার জটিলতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। জমির মালিকানা, খতিয়ান, দাগ, নামজারি, খাজনা বা জমা-খারিজের মতো বিষয়গুলো মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে। এ কারণে প্রযুক্তিনির্ভর ভূমি ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ভূমি প্রশাসনের অধিকাংশ সেবা ইতোমধ্যে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে জনগণের ভোগান্তি কমবে এবং ভূমি অফিসকেন্দ্রিক মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যও হ্রাস পাবে। অনলাইনভিত্তিক ভূমিসেবা চালুর ফলে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির পথ সহজ হবে এবং সেবাগ্রহীতারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে সেবা পাবেন।'
দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে মাথাপিছু জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'জমির অর্থনৈতিক মূল্য বাড়ার পাশাপাশি জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমাও বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ ব্যক্তি, পরিবার এমনকি জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই পরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার ও নির্ভুল রেকর্ড সংরক্ষণকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে নির্ভুল ভূমি রেকর্ড প্রস্তুতের কাজ চলছে। সরকারের লক্ষ্য এমন একটি আধুনিক ভূমি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা, যেখানে মানুষকে আর অযথা অফিসে ঘুরতে হবে না কিংবা দুর্নীতি ও হয়রানির শিকার হতে হবে না।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'জাতীয় নির্বাচনের আগে ঘোষিত ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, সারা দেশে ভূমিসেবা মেলার আয়োজন তারই অংশ। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রাজনীতি এগিয়ে নিতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'
তিনি বলেন, 'দীর্ঘ সময়ের শাসন-শোষণের পর দেশের মানুষ এখন রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে নিজেদের অধিকারের প্রতিফলন দেখতে চায়। এ কারণেই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনী অঙ্গীকার ও জুলাই সনদের বিভিন্ন দফা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।'