ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক রয়েস ল্যাম্বার্থ রায়কালে বলেন, 'সাংবাদিকদের চাকরি খারাপের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং খেয়ালখুশিমতো নেয়া হয়েছিল। এছাড়া সরকার ভিওএ কোন ভাষা বা অঞ্চলে সম্প্রচার চালাবে তা সংক্রান্ত আইনগত বাধ্যবাধকতা বিবেচনা করেনি।'
ভিওএ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি প্রচারণা মোকাবিলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের চেষ্টা করেন। তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভিওএকে ‘বামপন্থী পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প একইসঙ্গে 'রেডিও ফ্রি ইউরোপ' ও 'রেডিও ফ্রি এশিয়া' এর মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমও বন্ধের নির্দেশ দেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারি লেককে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মিডিয়ার (USAGM) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন, যা ভিওএসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যমের তদারকি করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ক্যারি লেক সংস্থাটির ৮৫ শতাংশেরও বেশি কর্মীকে বরখাস্ত করেন। শুধুমাত্র ভিওএ-তে এক হাজারের বেশি সাংবাদিক চাকরি হারান। অনেককে দীর্ঘ সময় বেতনসহ প্রশাসনিক ছুটিতে রাখা হয়েছিল।
গত সপ্তাহে বিচারক ল্যাম্বার্থ রায় দেন, ক্যারি লেকের কাছে USAGM কর্মীদের বরখাস্ত করার আইনগত ক্ষমতা ছিল না, কারণ তিনি মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পাননি।
ভিওএ’র তিনজন সাংবাদিক এই মামলাটি করেন। তাদের একজন প্যাস্টি উইডাকুসওয়ার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'আমরা আশা করি, আমেরিকান জনগণ আমাদের সাংবাদিকতার মিশনকে সমর্থন করবে। আমাদের লক্ষ্য প্রচার নয়, সংবাদ পরিবেশন।'
বন্ধ হওয়ার আগে ভিওএ প্রায় ৫০টি ভাষায় টেলিভিশন, রেডিও ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার চালাত। বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের ভিওএ-বিরোধী অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে তার বৃহত্তর সমালোচনার অংশ হিসেবে দেখছেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে ক্রমাগত রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত মনে করছেন দেশটির দর্শকরা।