ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সারাদেশে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘাত বা সহিংসতায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভোট দিতে গিয়ে ও ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। সকাল থেকেই ভোটাররা দলে দলে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিকেল ৩টা পর্যন্ত দেশের কোথাও বড় ধরনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
সংসদ প্রতিবেদকদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, চট্টগ্রামে ভোট দিতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মো. মনু মিয়া (৬২) নামে এক ভোটারের মৃত্যু হয়েছে। তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাড়ি নগরের ব্যাটারিগলির মধুবন গলিতে। তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জনক। সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজীর দেউড়ি বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনে এ ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কাজলার দনিয়া অগ্রদূত স্কুল কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে আবু সাঈদ সরকার (৫৩) নামে আরেক ভোটারের মৃত্যু হয়। সকাল পৌনে ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে ফারহান ইসরাক নিঝুম জানান, ভোট দিতে গিয়ে পাঁচতলায় ওঠার সময় তার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবু সাঈদ সরকার আগে থেকেই হৃদরোগে ভুগছিলেন।
এদিকে খুলনায় ভোটকেন্দ্রে গিয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি (৬০) মারা গেছেন। সকাল ৯টার দিকে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে তার মৃত্যু হয়।
মানিকগঞ্জ-১ আসনের শিবালয় উপজেলার মহাদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে বাবু মিয়া (৬৫) নামে এক ভোটার অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোটার স্লিপ (টোকেন) নেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) নামে এক পোলিং অফিসারের মৃত্যু হয়েছে। সকালে উপজেলার নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম ভোটকেন্দ্রে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি সরাইল উপজেলার হালুয়াপাড়া গ্রামের প্রয়াত গোলাম মওলার ছেলে।
সার্বিকভাবে নির্বাচন ঘিরে বিচ্ছিন্ন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সহিংস পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।