বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক প্রসঙ্গে ড্যানিলোভিচ বলেন, ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তার মতে, পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ঢাকাকে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করতে হবে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। রাখাইন রাজ্যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে ড্যানিলোভিচ বলেন, বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ আসিয়ানসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।
ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রামে প্রকাশিত জন এফ ড্যানিলোভিচের সাক্ষাৎকার।