আওয়ামী লীগের নিরপরাধ সমর্থকদের পাশে বিএনপি থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার ২৮ জানুয়ারি বিকেলে নিজের নির্বাচনী এলাকা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মোলানি বাজার এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, এবার নৌকা নেই, নৌকা পালিয়ে গেছে, শেখ হাসিনা ভারতবর্ষে চলে গেছেন। মাঝখানে তার যে সমর্থনকারীরা ছিলেন, তাদেরকে বিপদে ফেলে গেছেন। সেই বিপদের সময়ে বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি পরিষ্কারভাবে সবাইকে আশ্বস্ত করতে চান— কারও কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই। বিএনপি সাধারণ মানুষের পাশে আছে। যারা অন্যায় করেছে, কেবল তাদেরই শাস্তি হবে। আর যারা নিরপরাধ, তাদেরকে দলটি আগলে রাখবে।
২০১৪ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, সে সময় বিএনপি প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিল। ওই সময় এই ছেপড়িকুড়ি এলাকায় প্রিসাইডিং অফিসার হত্যা মামলার কারণে স্থানীয় মানুষকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তীব্র শীতের মধ্যে দিনের পর দিন ও রাতের পর রাত ধানক্ষেতে থাকতে হয়েছে, নানা ধরনের হয়রানি পোহাতে হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে সেই সংকটের অবসান হয়।
বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন দেশের মানুষ কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই, কারণ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হয়েছে বলে তার মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে এমন একটি সময় এসেছে, যখন মানুষ রাতে কিছুটা শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।
তিনি বলেন, আল্লাহর হুকুমে যদি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং মানুষ ঠিকভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে ভোটের মাধ্যমে একটি সরকার নির্বাচিত করা সম্ভব হবে এবং তখন দেশ ভালো থাকবে বলে তিনি আশা করেন।
নিজের বয়স ও রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটিই সম্ভবত তার শেষ নির্বাচন। এই শেষ ভোটে তিনি ভোটারদের কাছে সমর্থন কামনা করেন।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন জনগণকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী চায়। দেশে শান্তি, উন্নয়ন, স্কুল-কলেজের অগ্রগতি, ভালো রাস্তা-ঘাট এবং সন্তানদের কর্মসংস্থান চাইলে পরীক্ষিত দল ও পরীক্ষিত মানুষকেই ভোট দিতে হবে। সূত্র: আরটিভি