শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কারো বিজয় বা অবদান কেড়ে নিতে চাই না। কিন্তু সবাই মিলে আগে একাত্তরকে সম্মান করবো। এরপর আসবে পঁচাত্তর, ঊনআশি, নব্বই কিংবা চব্বিশের ঘটনা।'
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানকে সমানভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ইতিহাসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একাত্তরের ইতিহাসকে তিনি “অনন্য ও অবিসংবাদিত” বলে উল্লেখ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরুর পর চট্টগ্রাম থেকে তার ঘোষণার মধ্য দিয়েই স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণাই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটায়।'
এ সময় আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বিগত সরকার দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করেছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। প্রকৃত ইতিহাস আড়াল করে একক কৃতিত্ব দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আওয়ামী লীগ কাউকে কৃতিত্ব দিতে চায় না। কিন্তু আমরা সবার অবদানের স্বীকৃতি দিতে চাই।'
বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় দলটির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়, তা দেশের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।'
সাম্প্রতিক ‘২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারের পতন হলেও রাষ্ট্র এখনও পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন।'
দেশের অগ্রগতির জন্য সংসদীয় রাজনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।