ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা বলেছেন, “আমি বাংলাদেশের সব বিভাগেই গেছি, উন্নয়নের ছোঁয়া দেখেছি। তাহলে আমার সরাইল–আশুগঞ্জের এই অবস্থা কেন? কেন এই দুর্দশা? আমি স্বতন্ত্র হই আর যা-ই হই, এই দুর্দশা মেনে নেব না। আপনারা দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করবেন।”
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলার পাকশিমুল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম পরমানন্দপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
‘হাঁস’ প্রতীক পাওয়ার পর এদিন পরমানন্দপুর গ্রাম থেকেই প্রথম নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন রুমিন ফারহানা। জনসভায় তিনি বলেন, “আল্লাহ যদি আমাকে আপনাদের উসিলায় এমপি করেন, যে সরকারই আসুক না কেন, একজন স্বতন্ত্র এমপি হিসেবে সরকারকে বাধ্য করব এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে। স্কুল–কলেজ–মাদ্রাসা, মন্দির–মসজিদের উন্নয়নে শুধু সরকারি বরাদ্দ নয়, নিজের উদ্যোগেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
তিনি বলেন, “আজ পাঁচ গাঁও—পরমানন্দপুর, বরইচারা, ফতেহপুর, হরিপুর ও ষাটবাড়িয়া—থেকে আমার প্রচারণা শুরু। সরাইল–আশুগঞ্জ দেশের সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলার মধ্যে পড়ে। আমাকে বলা হয়েছে, এই পাঁচ গাঁও সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। এখানে আসতে দেড়–দুই ঘণ্টা গাড়ি, ২০ মিনিট নৌকা আর প্রায় এক ঘণ্টা অটোরিকশায় বালুর রাস্তা পাড়ি দিতে হয়েছে। সমাবেশে এসে বলছি—মা-বোনেরা যেমন ভর্তা বানায়, আমি তেমন ভর্তা হয়ে গেছি। তাহলে এখানকার মানুষ কীভাবে চলাচল করে?”
উন্নয়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “আমার প্রথম নির্বাচনী জনসভা থেকেই ওয়াদা করছি—ভূইশ্বর থেকে পরমানন্দপুর সড়কে একটি সেতু নির্মাণ করব। পাশাপাশি পাকা রাস্তার ব্যবস্থাও হবে। এই এলাকা দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন থাকলে মানুষ উন্নয়নের ছোঁয়া পাবে কীভাবে?”
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “হাঁস সমৃদ্ধির প্রতীক, ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতীক, নতুন শান্তির প্রতীক। তাই এবার ভোটটা হাঁস মার্কায় দিন। একবার সুযোগ দিন—এইবারের ভোটটা আমার হাঁস মার্কায় চাই।”
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশিমুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজ খান। উপস্থিত ছিলেন সরাইল উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আইয়ুব হোসেন সরদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হোসেন মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উসমান খাঁন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল বারেকসহ স্থানীয় নেতারা।