কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীদের ভয়হীনভাবে ‘বুক ফুলিয়ে চলাফেরা’ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। শনিবার রাতে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক সভায় তিনি এ বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যের একটি ভিডিও ক্লিপ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
সভায় সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আন্ধারীরঝাড় ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে যারা আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তারা আগামী দিনগুলোতে হাটে-বাজারে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করবেন এবং কেউ চুল পরিমাণ টুঁ শব্দও করতে পারবে না। তিনি বলেন, যারা যোগদান করেছেন তারা ভয়ে আছেন, তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আগে নিশ্চিত করা জরুরি। এ সময় উপস্থিত লোকজন ভয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে সাড়া দেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে ‘মিউচুয়াল’ করার দাবি করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি পরদিন ওসির সঙ্গে বসবেন এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কোনো আওয়ামী লীগ কর্মী যেন গ্রেফতার না হয়, তা নিশ্চিত করবেন। কেউ যদি পুলিশের হাতে আটক হয়, তার দায় তিনি নেবেন বলেও মন্তব্য করেন।
নিজের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার ২৫টি ইউনিয়নের সভাপতিদের মধ্যে তিনি অন্যতম পরিচিত নেতা। পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসক ও থানার ওসি তাকে নাম ধরে চেনেন বলেও তিনি বক্তব্য দেন। একই সঙ্গে কুড়িগ্রাম-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী আলহাজ সাইফুর রহমান তাকে ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচনা করেন বলেও দাবি করেন।
সভায় উপস্থিতদের বিএনপি প্রার্থী সাইফুর রহমান রানাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ নির্বাচনে বিজয়ী হলে ২০২৬ সালের ছয় মাসের মধ্যে এলাকার রাস্তাঘাট উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে এবং মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এ সময় তিনি জামায়াত ও বিএনপিকে তুলনা করে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম আকন্দ বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং এটি আবুল কালাম আজাদের ব্যক্তিগত বক্তব্য, দলীয় বক্তব্য নয়। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, তিনি ওই বিএনপি নেতাকে চেনেন না এবং তার সঙ্গে কখনো দেখা হয়নি। বিষয়টি কেন বলা হয়েছে তা জানতে তিনি থানার ওসির কাছে খোঁজ নেবেন। তবে কারও আশ্বাসের কারণে পুলিশের কাজে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও তিনি জানান।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ওই বিএনপি নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে তার কোনো কথা হয়নি। পুলিশ কারও কথায় কাজ করে না এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে। অপরাধী পাওয়া গেলে গ্রেফতার করা হবে বলেও তিনি জানান।