আ.লীগের বিভিন্ন কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশের চেষ্টার নেপথ্যে কী?

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা বা তালা খুলে ভেতরে ঢোকার খবর উঠে আসছে সংবাদমাধ্যমে। কোথাও কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও পাল্টা দখল, হামলা কিংবা ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এসব তৎপরতা দলীয় নির্দেশে নাকি ব্যক্তিগত উদ্যোগে হচ্ছে, কিংবা এর পেছনে বিএনপি, জামায়াত বা অন্য কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়। এ কারণে দলটি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বন্ধ থাকা কার্যালয় খুলে প্রবেশ করেছেন বা সে চেষ্টা চালিয়েছেন।

আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মনে করেন, দলীয় কার্যালয় নিষিদ্ধ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়নি। তাই সেখানে যাওয়ায় আইনগত কোনো বাধা নেই। বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, এতে কোনো নির্দেশনা বা সমঝোতার বিষয় নেই; কর্মী-সমর্থকদের কার্যালয়ে যাওয়া স্বাভাবিক। তাঁর ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এই প্রত্যাশা থেকেই তৃণমূলের কর্মীরা কার্যালয়ে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, ইউনূস সরকারের সময় ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব ধরনের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ ও অনলাইন কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

তবে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও বিভিন্ন সময়ে ঢাকাসহ নানা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের পক্ষে প্রচারণা চোখে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ‘নো বোট, নো ভোট’ স্লোগানও সামাজিক মাধ্যমে দেখা যায়।

ছাত্রলীগের কর্মী রিহান সরদার জানান, ২০২৪ সালের আগস্টের পর তিনি নিজ জেলায় থাকতে পারেননি। ঢাকায় অবস্থান করে ঝটিকা মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা একটি বার্তায় সারাদেশে যার যেখানে সম্ভব দলীয় কার্যালয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। দলীয় সূত্রগুলোও জানায়, বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় শেখ হাসিনা এমন পরামর্শ দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার কর্মসূচিতে গিয়ে মারধরের শিকার হন। তবে রিহান সরদারের মতে, এ ঘটনাই কর্মীদের মধ্যে কিছুটা সাহস জুগিয়েছে।

এদিকে স্থানীয় পর্যায়ের দলীয় সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি বা জামায়াতের প্রভাবশালী নেতারা ভোটের সমর্থনের আশায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় জনপ্রিয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। সে সময় নির্বাচনের পর কার্যালয় খুলতে বাধা দেওয়া হবে না—এমন আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরে কোথাও কোথাও নিজ নিজ দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ সেই উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, ফলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে।

নির্বাচনের পরদিনই পঞ্চগড়ের একটি আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা খোলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতিতে চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা খোলা হচ্ছে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, সেটি যে আওয়ামী লীগের কার্যালয় তিনি জানতেন না।

গত এক সপ্তাহে চাঁদপুর, ঠাকুরগাঁও, সাতক্ষীরা, বরগুনা, পটুয়াখালী, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় কার্যালয় খুলে অবস্থান নেওয়া ও স্লোগান দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। কোথাও আবার প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কর্মীরা পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ময়মনসিংহের তারাকান্দায় কার্যালয় খোলার পর সেখানে বিক্ষোভ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক পার্টির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ‘ধানমন্ডি ৩২’ বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাহাউদ্দিন নাছিমের মতে, তখন কার্যালয়গুলো দখল করা হয়েছিল, এখন পরিস্থিতি বদলানোয় সেখানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন মনে করেন, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ দেওয়া হলে তা ইতিবাচক হতে পারে। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচিত সরকার আসার পর কার্যালয় খোলার এই তৎপরতা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর একটি প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর