চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০৯ শিক্ষার্থী।
শনিবার (১১ জুলাই) মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি জানায়, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ জন শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৭ জন, আহত হন ১১ জন শিক্ষার্থী।
মার্চ মাসে ৫৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৬৭ শিক্ষার্থী, আহত হন একজন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫৬ জন ও আহত হন ২৫ জন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়, আহত হন ২৩ জন। জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬০ শিক্ষার্থী, আহত হন ২৭ জন।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল সমাজ গঠন সম্ভব।
তিনি বলেন, ২০১১ সালের মিরসরাই ট্র্যাজেডির পরও শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম গড়ে ওঠেনি। ফলে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটছে এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, দেশের ইতিহাসে এক দুর্ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির ওই ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর ও নিয়মিত কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। ফলে সড়কে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর ঘটনা এখনো উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে।