ক্রেমলিন জানিয়েছে, শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা (জিএমটি ১৩:০০) থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়ে রোববার মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে। এই সময়সীমা উভয় দেশের অর্থোডক্স ইস্টার উদযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ইউক্রেনও সমানভাবে এই যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলৌসভ সেনাবাহিনীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে তাৎক্ষণিক জবাব দিতে বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেন আগে থেকেই এমন একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল এবং তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি এবং এটি স্থায়ী শান্তির পথে একটি সম্ভাব্য সুযোগ হতে পারে।
তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলার অভিযোগ উঠেছে। আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোন ও কামানের মাধ্যমে তিনটি জেলায় প্রায় ৩০ বার হামলা চালানো হয়, এতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।
এই স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নতুন কিছু নয়। গত বছরও একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ভেস্তে যায়।
এদিকে যুদ্ধ অবসানে বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো স্থবির। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ সরে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগাম কোনো আলোচনা হয়নি এবং এটি নতুন করে শান্তি আলোচনার সূচনাও নয়।
তবে সংঘাত চলমান থাকলেও মানবিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ নিহত সেনাদের মরদেহ বিনিময় করেছে, যা পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ধরনের বিনিময়ে প্রায়ই মধ্যস্থতা করে তুরস্ক।
এদিকে জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, সামনে ইউক্রেনের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। তার মতে, বসন্ত ও গ্রীষ্মে সামরিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়বে এবং সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টি বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।