বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশন চলাকালে রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুরুর আগে বিরোধী দল ওয়াকআউট করলে সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সংসদ জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আমরা অনুরোধ করেছিলাম, যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর ছিল তারা যেন এখানে কোনো বক্তব্য রাখতে না পারে। কিন্তু আমাদের সেই আহ্বান গ্রহণ করা হয়নি।’
রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, 'অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি কোনো অবস্থান নেননি। রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে সে সময়ের কোনো খুনের বিরুদ্ধেও তিনি প্রতিবাদ করেননি বা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।'
দ্বিতীয় অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, '২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেছিলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং তিনি তা গ্রহণ করেছেন। কিন্তু পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সেই বক্তব্য অস্বীকার করেছেন। এতে তিনি জাতির সামনে ‘মিথ্যাবাদী’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন।'
তৃতীয় অভিযোগের প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থানের পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংস্কার পরিষদের সদস্য ও সংসদ সদস্য—এই দুই ভূমিকায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি একটি অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করার কথা থাকলেও রাষ্ট্রপতি তা করেননি।'
তিনি আরও দাবি করেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলেও সেই অনুযায়ী উদ্যোগ না নেওয়ায় রাষ্ট্রপতি জনগণকে অসম্মান করেছেন। এসব কারণেই তারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে রাজি নন বলে জানান শফিকুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা সংক্ষুব্ধ হয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে এসেছি। ভবিষ্যতেও সংসদে কোনো অন্যায় হলে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাব।’