ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর ওপর গণভোট। এখন পর্যন্ত পাওয়া বেসরকারি ফলাফলে সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আধিক্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ঢাকার বিভিন্ন সংসদীয় আসনের ১০৬টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৬৯ হাজার ৩৪৭টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ১৯ হাজার ৯৪৫টি।
গণভোটে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্তভাবে জয়ী হলে বাংলাদেশের সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের পথ খুলবে বলে জানানো হয়েছে।
‘হ্যাঁ’ জিতলে সম্ভাব্য প্রধান পরিবর্তনগুলো হলো—
- রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি: প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য নিয়োগ দিতে পারবেন (এ বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে)।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পদ্ধতি: সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটের পরিবর্তে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
- উচ্চকক্ষ গঠন: ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ গঠন; রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসন বণ্টন।
- প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা: একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদে (১০ বছর) প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন; প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধান একই ব্যক্তি হতে পারবেন না।
- সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতা (৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন): অর্থবিল ও অনাস্থা ভোট ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ।
- ডেপুটি স্পিকার: সংসদের ডেপুটি স্পিকার বাধ্যতামূলকভাবে বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত।
- বিচার বিভাগীয় সংস্কার: আপিল বিভাগ থেকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ বাধ্যতামূলক; হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে।
- মৌলিক অধিকার: জরুরি অবস্থায় মৌলিক অধিকার খর্ব না করা, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি।
- অন্যান্য: নির্বাচন কমিশন গঠন পদ্ধতি ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারেও পরিবর্তন—ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সম্মতি ছাড়া ক্ষমা নয়।
- চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর সনদটি কার্যকর হলে রাষ্ট্র পরিচালনায় কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের একটি বড় অধ্যায় সূচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।