ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের মতো ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলাজুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। শহর থেকে গ্রাম, হাট-বাজার থেকে অলিগলি—সবখানেই এখন নির্বাচনী আলোচনা। প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে এলাকার দেয়াল ও সড়কপথ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও ঘরে ঘরে ভোট প্রার্থনা।
ঢাকা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক ডাকসুর ভিপি আলহাজ আমান উল্লাহ আমান নির্বাচন করছেন। অপরদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কর্নেল (অব.) মো. আব্দুল হক। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা জহিরুল ইসলাম। এই আসনে তিন প্রধান প্রার্থীর প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে পথসভা, মতবিনিময় সভা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা।
ঢাকা-৩ আসনেও নির্বাচনী উত্তাপ কম নয়। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল প্রতিযোগিতা ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর রহমানকে ঘিরে। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে এলাকায় নির্বাচনী পরিবেশ বেশ প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা, রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা, মাদক ও কিশোর গ্যাং সমস্যা, কর্মসংস্থান এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রার্থীরা এসব সমস্যা সমাধানে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কেউ উন্নয়নের কথা বলছেন, কেউ আবার পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ভোটের দিন যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক তৎপরতা এখন তুঙ্গে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, নির্বাচনী মাঠের উত্তাপও তত বাড়ছে।