তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন, মনে করেন ৪৭% মানুষ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৮

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দায়িত্ব নিতে পারেন বলে মনে করছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। একই জরিপে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। জরিপে অংশ নেওয়াদের ৬০ শতাংশের ধারণা, গণভোট হলে সেখানে ‘হ্যাঁ’ ভোটই বিজয়ী হবে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পিইপিএস) রাউন্ড-৩’ শীর্ষক এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং জরিপটি পরিচালনা করে। ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রুবাইয়াত সারওয়ার। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ভোটদানের আগ্রহ ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে জনমত তুলে ধরাই ছিল রাউন্ড-৩ জরিপের মূল উদ্দেশ্য।

জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে বাছাই করা ৫ হাজার ১৪৭ জনের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

জরিপে অংশ নেওয়া ৯৩ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেবেন। আগের রাউন্ডে যারা ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তাদের মধ্যে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ এবারও একই মত দিয়েছেন। যারা আগে ভোট দেবেন না বলেছিলেন, তাদের ৭৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবার ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর যারা আগে মতামত জানাননি, তাদের ৮৯ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।

গণভোট প্রসঙ্গে প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা গণভোট বিষয়ে অবগত নন।

রাউন্ড-৩ জরিপে ৭২ দশমিক ৩ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে, যা আগের রাউন্ডের তুলনায় বেশি। স্থানীয় পর্যায়ে পুলিশ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও ইতিবাচক ধারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৮২ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তারা নিরাপদ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন, যেখানে আগের রাউন্ডে এই হার ছিল ৭৮ শতাংশ। জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সংঘাত তুলনামূলক কম হলেও জাতীয় পর্যায়ে সংঘাত বেশি বলে তাদের ধারণা।

আগামীকাল নির্বাচন হলে নিজ নিজ এলাকায় কোন দলের প্রার্থী জয়ী হতে পারেন—এ প্রশ্নে ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপি প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেছেন। তবে ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। রাউন্ড-২-এর তুলনায় বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে উল্লেখের হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ।

ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা তারেক রহমানের নাম বলেছেন। ২২ দশমিক ৫ শতাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ডা. শফিকুর রহমান। ২ দশমিক ৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এনসিপির আহ্বায়ক ও এক দফার ঘোষক নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা জানেন না কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, যা নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।

জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা ইতোমধ্যে কোন দলকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় বেশি। তবে নারী উত্তরদাতাদের মধ্যে ৬৯ দশমিক ৭ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন, বিপরীতে পুরুষ উত্তরদাতাদের ৭৭ দশমিক ৫ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

রাউন্ড-৩ এবং আগের রাউন্ডগুলোর তুলনায় ভোট পছন্দে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। সামগ্রিকভাবে বিএনপি তাদের মূল সমর্থন ধরে রেখেছে এবং আগের রাউন্ডে জামায়াত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলা কিছু ভোটারের সমর্থনও পাচ্ছে। যদিও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কিছু ভোট স্থানান্তর হয়েছে, মোট হিসাবে জামায়াতের দিকেই নিট পরিবর্তন বেশি দেখা গেছে, যা তাদের ভোট ভাগে প্রভাব ফেলেছে। বিএনপি উল্লেখযোগ্যভাবে আওয়ামী লীগের ভোট থেকেও সমর্থন পাচ্ছে। একই সঙ্গে রাউন্ড-৩-এ কিছু জামায়াত সমর্থক তাদের ভোট পছন্দ প্রকাশ করেননি, ফলে জামায়াতের ভোটব্যাংকে বিএনপির তুলনায় বেশি অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।

আগের আওয়ামী লীগ সমর্থকদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন, আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি ও তাদের জোট পেতে পারে ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট, জামায়াত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ ভোট। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ভোট পছন্দ জানাননি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভোটব্যাংকে অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং প্রচারণা কৌশলের ধরন অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াত জোটের মধ্যে ব্যবধান কমে আসতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত আসন বণ্টনে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ এম. শাহান, ভয়েস ফর রিফর্মের যুগ্ম আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্রেইনের সদস্য জ্যোতি রহমান এবং ইনোভেশন কনসালটিংয়ের পোর্টফোলিও ডিরেক্টর তাসমিয়া রহমান।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী সদ্য. দূরপাল্লায় ২০ পয়সা ও শহরে ১৮ পয়সা কি.মি বাসভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব সদ্য. পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান সদ্য. সংস্কার ছাড়া জ্বালানি সংকটের সমাধান নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সদ্য. গাজী নজরুলের ৪ দিন ও স্ত্রীর ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর সদ্য. বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম সদ্য. দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে বাসভাড়া ৫০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সদ্য. বিআরটিএতে বাস ভাড়া বাড়ানোর মিটিং চলছে সদ্য. ‘শুধু সার চেয়েছিল, এখন ঘরছাড়া’, গ্রেপ্তার আতঙ্কে কুড়িগ্রামের কৃষকেরা সদ্য. গুলশানে নতুন ডিসি, খিলগাঁওয়ে নতুন ওসি পদায়ন সদ্য. ঠাকুরগাঁওয়ে মিড ডে মিলের দুধ খেয়ে হাসপাতালে ৩৫ শিক্ষার্থী