সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের পরিণতি ফ্যাসিস্টদের মতোই হবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বুধবার দিবাগত রাতে ১৮ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ভিডিও বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিভিন্ন স্থানে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তাদের কাছে কোনোভাবেই কাম্য বা প্রত্যাশিত নয়। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি জানান, সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করলেও সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় তাদের মধ্যে গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নাহিদ বলেন, তারা আন্তরিকভাবে চান এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। তার ভাষায়, এই নির্বাচনে জয়–পরাজয় মুখ্য বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জাতি হিসেবে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারে কি না, সেটাই আসল প্রশ্ন। তিনি বলেন, এক হাজার মানুষের জীবনদানের পরও যদি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত না হয়, তবে সামনে দেশের জন্য অন্ধকার সময় অপেক্ষা করছে।
তিনি আরও বলেন, এটি রাষ্ট্র ও জাতি হিসেবে সক্ষমতার প্রশ্ন এবং যারা শহীদ হয়েছেন, যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের সঙ্গেও বিষয়টি জড়িত।
প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে তারা জানতে পারছেন যে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের পক্ষ থেকে ওসিদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে, যাতে নির্দিষ্ট দলীয় প্রার্থীদের সহায়তা করা হয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত নেতিবাচক এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১১-দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কোথাও কোথাও মব তৈরি করে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পুলিশে তুলে দেওয়ার চেষ্টাও হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঢাকা–১১ আসনের এই প্রার্থী আরও বলেন, কোনো কোনো এলাকায় পুলিশের পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম দেখলে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সর্বত্র উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
জেন-জিদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই ভোটার না হলেও ভোটকেন্দ্রে এসে কেন্দ্রের চারশ গজের বাইরে অবস্থান করার আহ্বান জানান তিনি। অন্যায় দেখলে প্রতিরোধ করার কথা বলেন এবং বন্ধুদের নিয়ে দলবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের আহ্বান জানান।
ফ্যাসিস্ট শক্তি নানা অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে অভিযোগ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তাদের সঙ্গে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া একটি দলও যুক্ত হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন পেজ ও মাধ্যমে নানা ধরনের তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ফ্যাসিস্টদের পরাজিত করার নির্বাচন। তাদের বাদ দিয়েও একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব—এমন বিশ্বাসের কথা জানান তিনি।
অপতৎপরতার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রশাসনের সদস্য হোক বা রাজনৈতিক কর্মী—যারা এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকবে, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং সময়মতোই সেই বিচার কার্যকর হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।