সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির জনপ্রিয়তার কথা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, “মাঠের বাস্তবতা বলছে, সারা দেশে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমাদের নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য।”
সংবাদ সম্মেলনে বোরকা ও নিকাব ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিএনপি নারীর পর্দা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো গোষ্ঠী যদি এই পবিত্র পোশাককে ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তা চরম অনৈতিক ও গণতন্ত্রবিরোধী হবে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, “ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় যাচাই জরুরি। এনআইডি বা পাসপোর্টের ছবি তোলার সময় যেমন মুখমণ্ডল অনাবৃত থাকে, তেমনি নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা নারী চ্যালেঞ্জকারী এজেন্টের উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করা যেতে পারে—পর্দার মর্যাদা রক্ষা করেই।”
একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি কঠোর সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, “যারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন ধর্মকে অপব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাইছে। জান্নাতের টিকিট বিক্রির প্রলোভন দেখানো হচ্ছে, ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি সংগ্রহ করে অবৈধ লেনদেনের চেষ্টা চলছে—এগুলো সরাসরি ভোটার প্রতারণা।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে তুই-তোকারি করা কোনো নেতার রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও ঐতিহ্যের অংশ হতে পারে না।
নির্বাচন পরিচালনায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ জানান মাহদী আমিন। ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি বিতর্কিত আখ্যা দিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত ভোটারদের নিরুৎসাহিত করবে এবং উৎসবমুখর পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নির্বাচন কমিশনকে এই প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি।”
পর্যবেক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশন অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থাকে প্রায় ৬৯ শতাংশ পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এসব সংস্থার সঙ্গে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। এ বিষয়ে বিএনপি নির্বাচন কমিশনে লিখিত আপত্তি জানিয়েছে।
একটি বেসরকারি জরিপের বরাত দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দল-মত নির্বিশেষে সবার ভোটাধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।