চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন এমপি বলেছেন, ‘সর্ব অঙ্গে ক্ষত, ঔষধ দেব কত? ১৭ বছর আওয়ামী লীগ দেশটাকে লুটেপুটে খেয়েছে। কোন রাস্তা-ঘাট, পুল-কালভার্ট করেনি। দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বাইরে পাচার করে দিয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা ক্ষমতায় আসার ২ মাসের মধ্যে দেশের অর্থনীতি মন্দা অবস্থায়ও ব্যাপক উন্নয়ন কাজ সাধিত হয়েছে।’
পর্তুগালের রাজধানী লিসবন আজ আবারও ফিরে গেল ইতিহাসের সেই স্মরণীয় দিনে কার্নেশন বিপ্লবের স্মৃতিতে। ২৫ এপ্রিল উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে আয়োজিত হয় বিশাল র্যালি, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নেয় স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সামাজিক চেতনার প্রতীক হিসেবে।
সকাল থেকেই লিসবনের প্রধান সড়ক Avenida da Liberdade-এ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। হাতে লাল কার্নেশন ফুল, কাঁধে জাতীয় পতাকা এবং মুখে স্লোগান নিয়ে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণির মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেয়।
র্যালি চলাকালীন শহরের রাস্তাগুলোতে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। সংগীত, স্লোগান এবং ঐতিহাসিক ব্যানারে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখলেও, পুরো আয়োজন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ।
ইতিহাসের প্রতীকী পুনরাবৃত্তি: সেনাবাহিনী ও জনগণের মিলন
র্যালির অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতীকী সামরিক উপস্থিতি। ১৯৭৪ সালের ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করে ১৯৭৪ সালে বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সেনাবাহিনীর সাবেক সৈনিকরা ইউনিফর্মে উপস্থিত হন। তবে এটি ছিল সম্পূর্ণ প্রতীকী, যা অতীতের ঘটনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
১৯৭৪ সালের ২৫ এপ্রিল: ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
১৯৭৪ সালের এই দিনে পর্তুগালে ঘটে যায় এক অভূতপূর্ব সামরিক ও জনতার অভ্যুত্থান। সেনাবাহিনীর একটি অংশ—“Movimento das Forças Armadas (MFA)”—দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।
তৎকালীন শাসনব্যবস্থা ছিল কর্তৃত্ববাদী, যার ভিত্তি গড়ে উঠেছিল António de Oliveira Salazar-এর সময় থেকে। রাজনৈতিক স্বাধীনতা সীমিত ছিল, সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত ছিল এবং বিদেশে চলমান যুদ্ধ দেশকে ক্লান্ত করে তুলেছিল।
সেদিন ভোরে সেনারা লিসবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নিয়ন্ত্রণে নেয়। তারা রেডিও বার্তার মাধ্যমে জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানালেও, বাস্তব পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে এবং সেনাদের পাশে দাঁড়ায়।
এই সময়ই জন্ম নেয় ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতীকী দৃশ্য—একজন ফুল বিক্রেতার দেওয়া লাল কার্নেশন সেনাদের বন্দুকের নলে গুঁজে দেওয়া হয়। ফলে সংঘর্ষের বদলে তৈরি হয় ঐক্য ও শান্তির প্রতীক।
এই আন্দোলন পরবর্তীতে ইতিহাসে পরিচিত হয় Carnation Revolution নামে, যা প্রায় রক্তপাতহীনভাবে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে পর্তুগালে গণতন্ত্রের পথ খুলে দেয়।
স্মৃতি ও চেতনার পুনর্জাগরণ
২০২৬ সালের এই উদযাপন শুধুমাত্র অতীত স্মরণ নয়, বরং বর্তমান গণতান্ত্রিক চেতনার পুনর্ব্যক্তি। র্যালির পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা এবং ঐতিহাসিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
লিসবনের আজকের এই র্যালি আবারও প্রমাণ করেছে যে ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়—এটি জীবন্ত, চলমান এবং প্রজন্মের চেতনায় প্রবাহিত। কার্নেশনের রঙে রাঙা এই দিন পর্তুগালের মানুষের কাছে শুধু স্মৃতি নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।
সদ্য সংবাদ/হুমায়ূন আহমেদ শ্রাবণ