ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়েছিল মরক্কো। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে আফ্রিকার দলটি। প্রথমার্ধে দুই গোল করার পর বিরতির পর আরও দুইবার লক্ষ্যভেদ করে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এই জয়ে নিশ্চিত হয়েছে নকআউট পর্বের টিকিটও।
আটালান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জয় পেলেও গ্রুপসেরা হতে পারেনি মরক্কো। তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ ৭ পয়েন্ট। সমান পয়েন্ট পেয়েছে ব্রাজিলও। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল, আর রানার্সআপ হিসেবে শেষ বত্রিশে উঠেছে মরক্কো।
মরক্কোর হয়ে গোল করেন আশরাফ হাকিমি, ইসমাইল সাইবারি, সুফিয়ান রহিমি ও গেসিম ইয়াসিন। হাইতির একটি গোল করেন উইলসন ইসিডর, অন্যটি আসে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুর আত্মঘাতী গোল থেকে।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল মরক্কোর। প্রায় ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা। গোলের উদ্দেশ্যে ১৯টি শট নিয়ে ১২টি লক্ষ্যভেদী প্রচেষ্টা করে দলটি। অন্যদিকে হাইতির ৭টি শটের মধ্যে মাত্র ২টি ছিল লক্ষ্যে।
তবে প্রথম আঘাত হানে হাইতিই। ম্যাচের দশম মিনিটে জঁ-কেভিন দুভের্নের আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে লেনি জোসেফ কাছ থেকে বল জালে পাঠান। শেষ মুহূর্তে বোনুর গায়ে বল স্পর্শ করায় গোলটি আত্মঘাতী হিসেবে নথিভুক্ত হয়। ১৯৭৪ সালের পর বিশ্বকাপে এটি ছিল হাইতির প্রথম গোল।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য চাপ বাড়াতে থাকে মরক্কো। ৩৯তম মিনিটে গোলরক্ষকের ব্যর্থ ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে বল জালে পাঠান আশরাফ হাকিমি।
তবে চার মিনিট পর আবারও এগিয়ে যায় হাইতি। দণ্ডক্ষেত্রের বাইরে থেকে উইলসন ইসিডরের শক্তিশালী শটে মরক্কোর জালে বল জড়ায়। কিন্তু প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ইসমাইল সাইবারির গোলে আবার সমতায় ফেরে মরক্কো।
বিরতির পর ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। ধারাবাহিক আক্রমণে হাইতির রক্ষণভাগকে চাপে রাখার ফল আসে ৭৮তম মিনিটে। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সুফিয়ান রহিমি দলকে প্রথমবারের মতো এগিয়ে দেন।
নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে গেসিম ইয়াসিন আরেকটি গোল করলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মরক্কোর। দারুণ এই প্রত্যাবর্তনের জয়ে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় আটলাস লায়নরা।