রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১ টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ মানবিক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট সমাজসেবক মোঃ হাবীব আজম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবীব আজম বলেন, 'বধির ও বাক্-শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। এ শিশুরা অবহেলিত নয়, বরং যথাযথ সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে তারাই আগামী দিনের সম্পদে পরিণত হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'শীতবস্ত্র বিতরণের মতো উদ্যোগ শুধু শীত নিবারণই নয়, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিকতার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি বধির কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক টিটু চৌধুরী (বধির)। তিনি সাংকেতিক ভাষার মাধ্যমে বধির জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বীকৃতির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি বধির কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ ইব্রাহিম (মাস্টার)। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং সহযোগিতার জন্য অতিথিবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাঙামাটি বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি মো. নাছির উদ্দীন। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
অনুষ্ঠানে সাংকেতিক ভাষায় দোভাষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রাঙামাটি বধির (বাক্-শ্রবণ) বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দোভাষী হাছিনা বেগম।
এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাবলীগ জামাতের সদস্য মোঃ ইব্রাহিম, সদস্য মোঃ রনি, বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেন।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও বধির ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।