আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে দারুণ ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের ভিত গড়েছে বাংলাদেশ। তবে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও তিন অঙ্কের দেখা পাননি দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলাম। তানজিদের ৮৩ রানের পর সাদমান থেমেছেন ৬৭ রানে।
আফগানিস্তানের বোলারদের শুরু থেকেই চাপে রেখে ব্যাটিং করেছে বাংলাদেশের দুই ওপেনার। আক্রমণাত্মক মেজাজে তানজিদ এবং ধৈর্য ধরে সাদমান ইনিংস এগিয়ে নেন। তাঁদের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে শতরান, যা বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করে। তবে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেও ব্যক্তিগত মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি কারও।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ দুই উইকেটে ২২০ রান।
ইনিংসের শুরুতে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান। মাত্র ৪১ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর দ্বিতীয় পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে শুরুতে সতর্ক থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ছন্দ খুঁজে পান সাদমান ইসলাম। সপ্তম ওভারে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে কাভারে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান তিনি। তবে আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মাত্র ৫ রানে জীবন পাওয়া সাদমান পরে ইনিংস বড় করেন।
দুই ওপেনারের দৃঢ়তায় মাত্র ১৮ ওভারে শতরানের জুটি গড়ে বাংলাদেশ। গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের পর আবারও উদ্বোধনী জুটিতে শতরানের দেখা পায় দলটি। সেই ম্যাচেও ওপেনার হিসেবে ছিলেন সাদমান।
তবে সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাওয়া তানজিদকে থামান ইসমত আলম। ৮৩ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরাতে উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলকে স্টাম্পের কাছে নিয়ে আসে আফগানিস্তান। এরপর শর্ট বল খেলতে গিয়ে ব্যাটে স্পর্শ করালে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন তানজিদ।
প্রথম সেশন শেষে ২৬ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। তখন ৪১ রানে অপরাজিত ছিলেন সাদমান, আর মুমিনুল হকের সংগ্রহ ছিল ৫ রান।
পরে নিজের নবম টেস্ট অর্ধশতক তুলে নেন সাদমান। তবে ফিফটির পর ইনিংস আর বেশি দূর এগিয়ে নিতে পারেননি তিনি। মোহাম্মদ সেলিম সাফির বলে ৬৭ রান করে আউট হন এই বাঁহাতি ওপেনার।
ফলে সেঞ্চুরির সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার। তবু তাঁদের গড়া শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
সদ্য সংবাদ/এসকে