নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুমোদনের পর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকারের আলোচনায় এসেছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে বেসরকারি খাতের কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পিআইডি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
তিনি জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় কর্মরতদের বেতন পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। তবে এখনই বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বেতনহার নির্ধারণ করা হয়নি।
নাসিমুল গনি বলেন, বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবছর কর্মীদের বেতন বাড়িয়ে থাকে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এই বৃদ্ধির হার ৫ থেকে ৭ শতাংশের মধ্যে থাকে। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য, যারা নিজেরাও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকর্তা, তারাও বিষয়টি নিয়ে মতামত দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের ভাষ্য, বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির প্রসঙ্গটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও নতুন জাতীয় বেতন স্কেল সরাসরি তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই বেতন কাঠামো মূলত সরকারি বেতন স্কেলের আওতাভুক্ত কর্মচারীদের জন্য নির্ধারিত।
এর আগে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করে সরকার। নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন আর্থিক সুবিধায় পরিবর্তন আসবে।
অন্যদিকে বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশনা বা নির্দিষ্ট শতাংশ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে আলোচনা শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্তে গড়ায় এবং বেসরকারি খাতে এর কোনো প্রভাব পড়ে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
সদ্য সংবাদ/এসএস