হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা নিশ্চিত, বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধ ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গত ছয় মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে ১৬৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৩৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে মোট ৬১ লাখ ৫২ হাজার টাকা।
বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালনকারী চারজন এয়ারপোর্ট এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। আদায়কৃত জরিমানার অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিমানবন্দরে যাত্রীদের অন্যতম অভিযোগ লাগেজ থেকে মালামাল খোয়া যাওয়া। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও বডি ক্যামেরার ভিডিও পর্যালোচনা করে বিষয়গুলো যাচাই করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগের বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে বিমানবন্দরে লাগেজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বডি-ওর্ন ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। লাগেজ ওঠানো-নামানোর সময় একাধিক কর্মীকে ক্যামেরা চালু রেখে দায়িত্ব পালন করতে হয়। কাজ শেষে এসব ক্যামেরার ফুটেজ নির্দিষ্ট সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়।
জানা গেছে, কর্মীদের বডি ক্যামেরার ভিডিও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে। ফলে কোনো লাগেজ নিয়ে অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট সময়ের ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি লাগেজ যেসব স্থানে মানুষের সংস্পর্শে আসে, সেসব এলাকাও সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে লাগেজ থেকে মালামাল চুরির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই মধ্যে লাগেজ থেকে অর্থ চুরির চেষ্টার অভিযোগে একজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বিমানবন্দরে পড়ে থাকা যাত্রীদের মোবাইল ফোন, টাকা, অলংকারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ছয় মাসে দুই শতাধিক যাত্রীর হারানো বা ফেলে যাওয়া মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদেশ থেকে আসা লাগেজ নিয়ে যাত্রীদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির প্রয়োজনে লাগেজের তালা খোলার ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষ করে অনুমোদিত তালা ব্যবহার না করলে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় লাগেজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাগেজ হারানো, ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা কোনো মালামাল না পাওয়ার ঘটনা ঘটলে যাত্রীদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের কাছে অভিযোগ করতে হবে। প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ও বডি ক্যামেরার ফুটেজ যাচাই করে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিমানবন্দরের সার্বিক পরিবেশ ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অভিযোগ ও মতামত জানাতে বিমানবন্দর হটলাইন ১৩৬০০ নম্বরে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস