বাংলাদেশের মাতৃ, নবজাতক ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করতে প্রায় ২৪ লাখ মার্কিন ডলার বা ২৯ কোটি ৩২ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্য উপকরণ সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন হাসপাতালকে এ সহায়তার আওতায় রাখা হয়েছে। সরবরাহ করা সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখার যন্ত্র, কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের সরঞ্জাম, অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষ থেরাপিউটিক ফুড এবং টিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় কোল্ড চেইন উপকরণ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের উপস্থিতিতে এ সহায়তার বিষয়টি তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।
পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রদূত হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমানের হাতে মাতৃ ও নবজাতক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণের একটি মডেল তুলে দেন।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মার্কিন অর্থায়নে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে এসব চিকিৎসা সামগ্রী বাংলাদেশের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে এফএইচআই ৩৬০, ঝিপাইগো, জেএসআই ও ইউনিসেফ কাজ করছে।
দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু বড় শহর বা উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার আওতাধীন স্বাস্থ্যকেন্দ্র নয়, দেশের দুর্গম অঞ্চলের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও জীবনরক্ষাকারী এসব সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে মা ও নবজাতকের জরুরি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার মান ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’র আওতায় বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে উত্তরাঞ্চল সফরের অংশ হিসেবে সোমবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট পরিদর্শন করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সফরে তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডিয়ান ডাও, মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।
দেশের সর্বউত্তরের স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা সীমান্ত এলাকায় কিছু সময় অবস্থান করেন তারা। এ সময় সীমান্ত এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সবুজে ঘেরা দৃশ্য উপভোগ করেন রাষ্ট্রদূত ও তাঁর স্ত্রী। পরে তাঁরা সেখানে ছবি তোলেন।
তিন দিনের উত্তরাঞ্চল সফরের দ্বিতীয় দিনে পঞ্চগড়ে রাষ্ট্রদূতের এই সফর অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্যসেবা পরিদর্শনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার পরিবেশ ও স্থানীয় বাস্তবতাও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস