দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে সমন্বয় করছে সরকার। রাজধানী ঢাকার কিছু এলাকায় পরিকল্পিতভাবে লোডশেডিং করে সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ দেশের গ্রামাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং জাতীয় গ্রিডের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজধানীর দুই বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় লোডশেডিংয়ের সময় ও পরিমাণ সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে ঢাকায় সাশ্রয় হওয়া বিদ্যুৎ অন্য অঞ্চলে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, এ উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ না থাকার প্রবণতা কিছুটা কমানোর পাশাপাশি শিল্প-কারখানাসহ গুরুত্বপূর্ণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিভাগটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়া এবং কিছু কেন্দ্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সঞ্চালন অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং বন্ধ থাকা বা কম উৎপাদন করা কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। একই সঙ্গে গ্রিডের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৭৬ মেগাওয়াট। ওই সময়ে উৎপাদন পাওয়া যায় ১৩ হাজার ৯১৭ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি দাঁড়ায় ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান সংকটে কোনো একটি অঞ্চল বা গ্রাহক শ্রেণিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবঞ্চিত না রেখে সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্য রাখাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সদ্য সংবাদ/এসএস